:

চট্টগ্রাম বন্দর টার্মিনাল ইজারার প্রতিবাদে স্কপের অবরোধ পালন

top-news

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল-এনসিটি, লালদীয়াচর এবং পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশীদের ইজারা দেয়ার প্রতিবাদের চট্টগ্রাম বন্দর প্রবেশমুখে তিনটি অংশ প্রতীকী অবরোধ কর্মসুচি পালন করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ। তাদের এসময় তারা সরকারকে দেশ বিরোধী কর্মকান্ড থেকে সরে আসারও আহবান জানান। 

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল  ১০টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশপথ নগরীর মাইলের মাথা, বড়পোল ও বন্দরের টোল প্লাজা  গেট এলাকায় প্রতীকী অবরোধ পালন করে স্কপ। কর্মসুচিতে অংশ নিয়ে সমর্থন সমর্থন জানায় পরিবহন শ্রমিকদের কয়েকটি সংগঠন ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা-কর্মীরা। এসময় শ্রমিক নেতারা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি একটি লাভজনক টার্মিনাল। সরকার দেশীয় স্বার্থ বিবেচনা না করে লাভজনক টার্মিনালটি বিভিন্ন অজুহাত তুলে বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে চায়। এ ধরনের কর্মকান্ড জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলেও দাবি তাদের।

দেশের আমদানী-রফতানী বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ যে বন্দর দিয়ে পরিবাহিত হয় সেই বন্দরটি বিদেশীদের দিয়ে দেয়া হলে দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব লংঘন হবে বলেও নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন। এর ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে বলেও তারা মনে করেন চট্টগ্রামে নাগরিক আন্দোলনের নেতা ডা: আরিফ বাচ্চু। লাভজনক এসব টার্মিনাল বিদেশীদের ইজারা দেয়ার পেছনে অর্ন্তবর্তী সরকারের দুরভীসন্ধি কাজ করছে বলেও  অভিযোগ করেন।

এদিকে একই অভিযোগ করেন  বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক  মসিউদ্দৌলা।  তিনি বলেন, ৮০দশকে অনেক বুদ্ধিজীবি শিল্প কল কারখানা বিরাষ্ট্রীয় করণের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ছিলেন। তারা সেসময় বিদেশী বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের কথা বলে ছিলেন। কিন্তু চার বছর পার না হতেই মুখ থবড়ে ছিল বিরাষ্ট্রীয়করণ। বন্ধ হয়ে যায় হাজার হাজার কারখানা, বেকার হয় অসংখ্য শ্রমিক কর্মচারী। সেই একই কায়দায় বিনিয়োগের কথা বলে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। 

সিপিবি’র সাবেক সভপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলে ভূরাজনীতি দ্বন্দ্ব নিয়ে বিশে^ পরাশক্তি গুলির মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে সে বিরোধে বাংলাদেশ জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে। তার অভিযোগ, দেশের স্বার্থে নয়, বরং মার্কিনের স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেয়া হচ্ছে। এরফলে বঙ্গোপসাগর এলাকাসহ চট্টগ্রাম বন্দর মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
সমাবেশে অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা এস কে খোদা তোতন, ফজলুল কবির মিন্টু, শরাফুদ্দিন কবির আবিদসহ স্কপ নেতৃবৃন্দ।
কর্মসুচিতে বক্তরা অবিলম্বে সরকারকে বন্দর ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহবান জানান। অন্যথায় চট্টগ্রাম বন্দরকে রক্ষায় হরতাল, অবরোধসহ কঠোর কর্মসুচি দেয়া হবে বলে হুশিয়ার করে দেন। 

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালটি নির্মিত হয় ২০০৭ সালে, যেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানি কনটেইনারের বেশির ভাগ এই টার্মিনাল দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি পরিচালনা করছিল সাইফ পাওয়ারটেক। তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় গত ৬ জুলাই। এরপর থেকে টার্মিনালটি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। অপরদিকে লালদিয়া চরের টার্মিনাল পরিচালনার জন্য সরকার ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস এবং করানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনাল সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএকে দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

vKJEDrIXDnoJHrItSMWy

UIIFSlcjoyHIUZghxziKRyXu