:

পরিবহণ খাতে বাড়তি ট্যারিফ স্থগিত: বন্দর কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ ব্যবসায়দের

top-news

পরিবহণ সেক্টরে আরোপিত বাড়তি ট্যারিফ  বন্দর কর্তৃপক্ষ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়ার পর রোববার বিকেল ৪টা থেকে আবারো পুরোদ্যামে সচল হয়েছে বন্দর কার্যক্রম। বাড়তি ট্যারিফ আরোপের ঘটনা কে কেন্দ্র  করে শনিবার সকাল থেকে পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠন পণ্য পরিবহণ বন্ধ করে দেয়ার প্রায় ৩৪ ঘন্টা অচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। এতে আমদানী-রফতানী বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরি  হয়।

এদিকে অনান্যখাতে আরোপিত ট্যারিফ ৭দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করা না বন্দর অচল করে দেয়া ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসীয়দের সংগঠন ”পোর্ট ইউজার্স ফোরাম”। 

দেশের আমদানি- রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৮০শতাংশ পরিবাহিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে গেইট পাস ফি ৫৭ টাকার স্থলে ২৩০টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এতে বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে বন্দরের পণ্য পরিবহণের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবহণ মালিক- শ্রমিক সংগঠন। প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহণ বন্ধ করে দিলে কার্যত বন্দর অচল হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ সহ আন্ত:জিলা পণ্য পরিবহণ।স্থবিরতা আসে বন্দর কার্যক্রমে। 

এদিকে, রোববার দুপুরে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে যোগ দেয় আন্দোলনরত পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বন্দরের আরোপিত নতুন ট্যারিফ অযৌক্তিক বলে দাবি করে। আন্দোলনরতদের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে নতুন আরোপিত ট্যারিফ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়ার কথা জানায় চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক। তিনি জানান, বিষয়টি তারা বোর্ড সভায় উত্থাপন করে নির্দেশনার জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। পরবর্তী ঘোষণা আসা পর্যন্ত নতুন আরোপিত ট্যারিফ স্থগিত থাকবে।  

বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ^াস পেয়ে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরাও তাদের কর্মসুচি স্থগিত ঘোষণা দেয়ার কথা জানান আন্ত:জিলা ট্যাংক-লরি-কাভার্ডভ্যান মালিক- শ্রমিক গ্রুপের প্রতিনিধি শামসুজ্জামান সুমন। কর্মসুচি স্থগিতের ঘোষণা দেয়ার পর বিকেল ৪টা থেকে  সচল হয় বন্দর কার্যক্রম। পণ্য পরিবহণের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার গাড়ি বন্দরে প্রবেশ শুরু করে এবং পণ্য পরিবহণে লোডিং-আন লোডিং শুরু করে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের অনান্য সেবা খাতের উপর ৪১শতাংশ হারে ট্যারিফ আরোপের প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে ৪ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করে সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন। এতে আমদান-রফতানী পণ্যের শুল্কায়ন বন্ধ হয়ে যায়।

বন্দরের অনান্য সেবাখাতে নতুনকরে ট্যারিফ আরোপে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। এ অবস্থায় শনিবার চট্টগ্রামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বৈঠক করে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পোর্ট ইউজার্স ফোরম নামে একটি সংগঠন এই সভার ডাক দেয়। এতে যোগ দেয় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবাসায়ীরা। 

বৈঠকে যোগ দিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী আগামী ৭ দিনের মধ্যে নতুন করে আরোপিত ট্যারিফ প্রত্যাহার করা না হলে বন্দর অচল করে দেয়ার ঘোষণা দেন।

আরোপিত ট্যারিফ প্রত্যাহার না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আরোপিত ট্যারিফ আগামী ৭দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে  বন্দর অচল করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের নেতৃবৃন্দ। 

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক  আমীরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ষ্টোর চার্জের নামে বাড়তি শুল্ক আরোপের কারণে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। চেম্বারের সাবেক আরেক পরিচালক এম এ সালাম দাবি করেন, একতরফা ভাবে ট্যারিফ না বাড়িয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ স্টেক হোল্ডারের সাথে আলাপ করতে পারতো। কিন্তু তা না করে ব্যবসায়ীদের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়।

দেশের আমদানী-রফতানী বাণিজ্যের ৮০ শতাংশের বেশি পরিবাহিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দরকে বলা বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। কিন্তু অদুরদর্শী কোন সিদ্ধান্তের চট্টগ্রাম বন্দরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশে আমদানী-রফতানী বাণিজ্যে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে ব্যবসায়ীদের। এতে রাজস্ব আদায় যেমন ব্যঘাত ঘটবে তেমনি দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মনে করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।  




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *