:

চাকসু নির্বাচন: ভোট গ্রহণে প্রস্তুত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ : প্রার্থী ৯০৮জন: প্যানেল ১৩টি প্রচারণার শেষ দিনে উৎসব মুখর ক্যাম্পাস

top-news

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-চাকসু নির্বাচন। দীর্ঘ সময় পর এবার ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু নির্বাচন। 

মঙ্গলবার ছিল চাকসু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন। শেষ দিনে উৎসবমুখর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। চাকসু নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। ভোটার, প্রার্থী আর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। 

নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই। তাদের আশা চাকসুতে ভোট হবে উৎসব মুখর পরিবেশে। ডাকসু কিংবা জাকসুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না চাকসুতে।

ক্যাম্পাসে সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে চাকসু কার্যকর ভূমিকা বলে আশা ভোটারদের। নিয়মিত চাকসু নির্বাচন হলে  শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না । পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্যপুর্ন পরিবেশ গড়ে উঠবে বলেও আশা সাধারণ ভোটারদের।

এদিকে, চাকসু যাতে ভোটারা নির্বিগ্নে ভোট দিতে পারে  সেজন্য পাঁচটি ফ্যাকাল্টি  ভবনকে ভোট কেন্দ্র  হিসেবে ঘোষণা  করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  মোট ভোট কেন্দ্র ১৫টি, বুথ  থাকবে ৭০০টি। ভোট কেন্দ্র থাকবে সিসিটিভি আওতায়। ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র প্রদর্শন করা হবে বলে জানায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মুনির উদ্দিন।  

চাকসুতে ২৬টি পদে ৪১৫জন এবং হল সংসদের  ১৪টি  ও হোস্টেলের ১০টি পদে ৪৯৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বদ্বিতা করছে। নির্বাচনে ‘দ্রোহ পর্ষদ’,‘ছাত্রদল প্যানেল’,‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ ,‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’,‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’,‘বৈচিত্র্য ঐক্য’,‘অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য’,‘সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য’,‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী জোট’,‘চাকসু ফর র‌্যাপিড চেঞ্জ’, রেভ্যুলেশন ফর স্টেট অফ হিউম্যানিটি, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র মজলিসের জোটসহ ১৩টি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।  নির্বাচনে একজন ভোট মোট ৪০টি ভোট প্রদান করবেন। এজন্য সময় বরাদ্দ করা হয়েছে ১০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতি জন ভোটারকে ২০ সেকেন্ডে একটি ভোট দিতে হবে। নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬ জন। এরমধ্যে ছাত্রী প্রায় সাড়ে ১১ হাজার।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বলছে, একজন শিক্ষার্থীকে পাঁচটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। এর মধ্যে চারটিতে থাকবে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের প্রার্থীদের নাম ও ব্যালট নম্বর। অন্য একটিতে থাকবে হল সংসদের প্রার্থীদের নাম ও ব্যালট নম্বর। এতে ভোটাররা দ্রুত বুঝতে পারবেন কোন ব্যালটে কোন পদ রয়েছে। ভোট গণনা হবে অপটিক্যাল মার্ক রিডার বা ওএমআর পদ্ধতিতে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকৌশল অনুষদে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৩৬ জন। তাঁরা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নতুন ভবন শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনে ভোট দেবেন ৫ হাজার ২৬৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহজালাল হলের ২ হাজার ৬৬৬ জন, এ এফ রহমান হলের ১ হাজার ৩০৭ ও আলাওল হলের ১ হাজার ২৯০ জন ভোটার রয়েছেন।

বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৫৩৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহ আমানত হলের ২ হাজার ২৪৭ জন, শহীদ আবদুর রব হলের ১ হাজার ৭৭৫ ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ৫১৬ জন।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভবনে ভোট দেবেন ৬ হাজার ৬০৬ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে নবাব ফয়জুন্নেছা হলের ১ হাজার ১৭৯ জন, শামসুন নাহার হলের ২ হাজার ২৯১, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের ২ হাজার ৪৮৭ ও অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের ৬৪৯ জন।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন মোট ৭ হাজার ৭৩ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে প্রীতিলতা হলের ২ হাজার ৫৫৫ জন, বিজয়–২৪ হলের ২ হাজার ৬০৪, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের ১ হাজার ৭৬০ ও শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ১৫৪ জন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন জানান, প্রতিটি বুথে সর্বোচ্চ ৫০০ শিক্ষার্থীর ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাকসু নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল, ইসলামী ছাত্র শিবির, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট,স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন সংগঠন আলাদা আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার জানান, নির্বাচনের দিন চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। ভোটের দিন ১৪টি প্রবেশ পথের মধ্যে ৭টি বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে ২৪টি পয়েন্টে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 
নির্বাচনের দিন বাড়ানো হয়েছে শাটল ট্রেন এবং বাস। 

সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০সালের ফেব্রুয়ারীতে। ওই নির্বাচনে ছাত্র শিবিরকে পরাজিত করে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য ভিপি-জিএসসহ সব ক’টি পদে নিরুংকুশ সংখ্যাঘরিষ্টতা পেয়ে বিজয়ী হয়। ওই বছরই ছাত্র ঐক্যর মিছিলে শিবিরের হামলায় ছাত্রমৈত্রী নেতা ফারুকুজ্জামন নিহত হলে কার্যত চাকসুর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *