চট্টগ্রামে রেকর্ড রুম থেকে জমির নথি গায়েব!
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 18 Sep, 2025
চট্টগ্রামে এবার সদর রেজিষ্ট্রী অফিসে অবস্থিত রেকর্ড রুম থেকে জমি-জমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েবের ঘটনা ঘটেছে। জেলা সদরের রেজিষ্ট্রী অফিসে ঘিরে গড়ে উঠা সংঘবদ্ধ একটি চক্র এসব নথি গয়েবের সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িত এক নকল নবিশকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডরুম থেকে নথি গায়েবের ঘটনায় চট্টগ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জেলা রেজিষ্ট্রার খন্দোকার জামিলুর রহমান। তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ভূমি অফিসও রেজিষ্ট্রী অফিসকে ঘিরে গড়ে উঠা সংঘবদ্ধ চক্রটির কারণে চট্টগ্রামের রেকর্ড রুমে থাকা প্রায় ২শ’ বছরের পুরানো লাখ লাখ বালাম বা নথি ক্রমশ: অনিরাপদ হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে অপরাধ মুলক কর্মকান্ড আরো বাড়বে বলে মনে করেন চট্টগ্রামের বিশিষ্টজন ও নাগারিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এসব নথি সংরক্ষনের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অটোমেশন প্রক্রিয়ার আনা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলি বলছে, জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রামে ভূূমি সংক্রান্ত রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালত হয় ২২টি সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের মাধ্যমে। বছরে এসব অফিসে মাধ্যমে সরকার বৈধভাবে রাজস্ব আদায় হয় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গত আগষ্ট মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের জমি-জমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা নথি সংরক্ষণের জন্য জেলা রেজিষ্ট্রার অফিসে তৃতীয় তলায় আছে সরকারি রেকর্ডরুম। যেখানে সংরক্ষিত আছে ১৮৩৬সাল থেকে জমি জমা সংক্রান্ত সকল নথি। যার পরিমান প্রায় সাড়ে ৯ লাখ।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই রেকর্ড রুমটি এখন অনেকটাই অরক্ষিত। সরকারি কর্মচারী নন এমন ব্যক্তি, নকল নবিশ কিংবা দলালদের অবাধ বিচারণ এই রেকর্ড রুমে। প্রতিদিন রেকর্ড রুম থেকে ভূমি সংক্রান্ত নানা কাজে বের করা হচ্ছে শত শত নথি। রেকর্ড রুম থেকে বের করা এসব নথি ছড়িয়ে ছিটে ফেলা রাখা হয় বিভিন্ন স্থানে। অযতœ- অবহেলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক বলামের পাতা ছিড়ে ঝরে ঝরে পড়ে যাচ্ছে।
সরকারি এই রেকর্ড রুমের দায়িত্বে আছেন একজন সাব-রেজিষ্ট্রার। কিন্তু সরচারচর তাকে দেখা যায় না বলে জানান রেজিষ্ট্রী অফিসের কর্মচারীরা। দৈনিক কয়টি নথি রেকর্ড রুম থেকে বের হয়েছে, কয়েটি নথি যথাস্থানে রাখা হয়েছে, সেসব নথি বালামের পাতা ঠিক আছে কিনা তাও দেখভালো করার কেউ নেই। নেই এসংক্রান্ত কোন রেজিষ্ট্রারও। টাকা দিলেও মেলে সরকারের রেকর্ড রুমে থাকা গুরুত্বপূর্ন নথি বা বলামের কপি।
অভিযোগ আছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি রেকর্ড রুমে থাকা দলিল বা নথি সংগ্রহ করে ভূমি দস্যুদের হাতে তুলে দেন। এর মাধ্যমে তৈরি করেন জাল দলিল। আর গুরুত্বপূর্ণ মুল নথি সরিয়ে ফেলা হয়। আর এসব জালিয়াতির কারণে জমি জমা নিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা অপরাধ মুলক কর্মকান্ড এমনকি খুনাখুনিও।
এদিকে রেকর্ড রুমে অবাধে যাতায়েতের সুযোগ নিয়ে গত ২৬ আগষ্ট রেকর্ড রুম থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলে লায়েক আলী বিশ^াস নামে এক নকল নবিশকে বরাখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান জেলা রেজিষ্ট্রার খন্দোকার জামিলুর রহমান।
রেকর্ড রুম থেকে গুরত্বপূর্ণ নথি গায়েবের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা ও সিনিয়র আইনজীবি এডভোকেট জিয়া হাবিব আহবান। নাথি গায়েবের ঘটনার সাথে ভূমিদস্যু এবং সংঘবদ্ধ একটি চক্র জড়িত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, আর্থিক ভাবে লাভবান হয়ে চক্রটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূণ নথি গায়েবের মাধ্যমে দেশে অরাজকতাসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।
এদিকে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং জালিয়াতি ঠেকাতে দেশের রেজিষ্ট্রার অফিস, সাব রেজিষ্ট্রার অফিসসহ ভূমি সংক্রান্ত সকল রেকর্ডরুমে অটোমেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিজিটাইজেলশন করার দাবি জানান সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের চট্টগ্রামের সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী। নেতৃবৃন্দ। তা না হলে ভবিষ্যতে রক্তক্ষীয় সংঘাত আরো বাড়বে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় গুরুর্ত্বপর্ণ নথি সংরক্ষণে এখনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভূক্তভোগীদের। পাশাপাশি সাব রেজিষ্ট্রী অফিসসহ ভূমি সংক্রান্ত সকল অফিস ডিজিটাইজট করার মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে আরো উদ্যোগী হওয়ার কথা বলছেন তারা।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

