নির্বাচিত সরকারের হাতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি সিপিবি’র
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 05 Sep, 2025
বাংলাদেশের পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলা শাখার ত্রয়োদশ জেলা সম্মেলনের উদ্বোধন হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগি চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনকমিউনিস্ট করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য ড. এম এম আকাশ। পার্টির পতাকা উত্তোলন করেন চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহা। এসময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন পার্টির সংস্কৃতি শাখার কর্মীরা।
উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এম আকাশ বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ছাত্রদের ইচ্ছায় ড. ইউনূস সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাকে সমর্থন দিয়েছিল। আমরা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে বলেছিলাম, আপনি গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন। কিন্তু আমরা দেখলাম, ইউনুস সেই পথে গেলেন না, তিনি রাজনৈতিক দল বানানোর কৌশল নিলেন। বন্দরকে বিদেশিদের হাতে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেন। করিডোর দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন।
সংস্কারের নামে সাত হাজার পৃষ্ঠার দলিল রচনা এ অবস্থায় মানুষ নির্বাচন নিয়ে হতাশ হতে লাগল, নির্বাচন হবে কী হবে না, সেই প্রশ্ন দেখা দিল। প্রশ্ন উঠল ইউনুস কার, কোন অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন? তখন তিনি একদিন লন্ডন গেলেন। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বললেন। বোঝা গেল, তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাচন দিতে চান না, চাপে পড়ে ভদ্র হয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। বোঝা যাচ্ছে, উনি যে বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছেন, সেখান থেকে কীভাবে নামবেন বুঝতে পারছেন না।
আমরা ইউনূসকে বলতে চাই, আপনাকে দিয়ে আর কিছু হবে না। সংস্কার, বিচার নিয়ে আপনার কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে আশা জাগাতে পারছে না। আপনি বরং তালবাহানা না করে নির্বাচন দিয়ে বাঘের পিঠ থেকে নেমে যান। সেটা আপনার জন্যও মঙ্গল, দেশের জন্য, জাতির জন্যও মঙ্গল।
আকাশ আরও বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির সঙ্গে আপস করেছিল। এজন্য দেশ আজ রাজাকার, আলবদরদের উল্লাসমঞ্চ হয়ে গেছে। পাকিস্তানের মন্ত্রী এসে এদেশের মানুষকে সবক দেওয়ার দু:সাহস দেখায়। আমরা সিপিবি মুক্তিযুদ্ধ আর বাহাত্তরের সংবিধানের প্রশ্নে কোনো আপস করবো না। রাজাকার-আলবদরদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আমরা রক্ষা করব। এই বাংলাদেশ হবে গরীব, মেহনতি, খেটে খাওয়া মানুষের। পাকিস্তানের ২২ পরিবারের মতো সালমান রহমান আর এস আলমের বাংলাদেশ আমরা চাই না।
চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহার সভাপতিত্বে ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য মৃণাল চৌধুরী ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
সমাবেশ শেষে লাল পতাকার মিছিল বের হয়। এরপর নগরীর কাজির দেউড়িতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে শুরু হয়েছে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

