:

শুক্রবার সিপিবি’র চট্টগ্রাম জেলা সম্মেলন

top-news


দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র আগামীকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা সম্মেলন। সকাল ১০টায় নগরীর চেরাগী চত্বরে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. এম এম আকাশ। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর নগরীতে দলটি লালপতাকা মিছিল করবে  এবং পরে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

মুলত: দলটির আগামী ১৯ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ কংগ্রেসকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে দলের বিভিন্ন ইউনিট এবং উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী দলটি এমন এক সময় তাদের ত্রয়োদশ কংগ্রেসের আয়োজন করছে যখন দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধসহ প্রশ্নের সম্মুখীন।

গত বছরের ৫ আগষ্ট দেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ তীব্র ছাত্র গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর এক বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে নোবেল বিজয়ী 
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইঊনূসের নেতৃত্বে অর্ন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করছে এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারীতে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ জুড়ে চরম বিশৃংখলা তৈরি হয়েছে। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলন্ঠিত হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।

আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, দেশ জুড়ে মব সংস্কৃতি চালু, বেপরোয়া চাঁদাবাজিসহ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা সাধারণ মানুষকে শংকিত করে তুলেছে। চরম ভাবে লংঘিত হচ্ছে মানবাধিকার।

দেশের অর্থনীতি চরমভাবে বিপর্যস্ত। চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশী অপারেটর নিয়োগ, আরাকান আর্মিকে করিডোর দেয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতের ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অর্ন্তবর্তী সরকার এরই মধ্যে নানা বির্তকে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের আখাংকা বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে চরম সন্দেহের তৈরি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংবিধান নিয়েও নানা বির্তক তুলে বাতিল করার ষড়যন্ত্র চলছে।
 
সিপিবি’র সর্বশেষ দ্বাদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে। ওই কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ শাহ আলম  এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন রুহিন হোসেন প্রিন্স। দ্বাদশ কংগ্রেসের পর থেকে দলটির বিভিন্ন গণ সংগঠনের অভ্যন্তরে চরম বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে বর্তমানে দলটির ছাত্র গণসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী দ্বিধাবিভক্ত।

দলটির অভ্যন্তরেও মোহাম্মদ শাহ আলম এবং মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম পন্থী হিসাবে দু’টি ধারা বিদ্যমান। এবারের কংগ্রেসেও দলটির মুল ধারা হিসাবে পরিচিত মোহাম্মদ শাহ আলম ও রুহিন হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বধীন কেন্দ্রেীয় কমিটি কংগ্রেসে দলীয় নীতি নির্ধারণে দলিল উপস্থাপন করছে। পাশাপাশি মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন অংশটিও আলাদা দলিল উপস্থাপনা করেছে। ফলে দলের কার্যক্রম নিয়ে স্পষ্টই দ্বিধাভিক্ত ঐহিত্যবাহী রাজনৈতিক দলটি।

এর আগে ১৯৯৩ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। দলটির নেতাদের একটি বড় অংশ সাইফুদ্দিন মানিকের নেতৃত্বে অবস্থান নেয়। পরে একটি অংশ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে অংশগ্রহণ করে। অন্য একটি অংশ গঠন করে কমিউনিস্ট কেন্দ্র। কয়েকজন নেতা যোগ দেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে।  অপর অংশ প্রবীন শ্রমিক নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টিকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। 

নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের ১৫ জুন তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির ৭৫ সদস্যের মধ্যে ৫৩ জন সংস্কারপন্থী সিপিবি থেকে পৃথক অবস্থান নেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক। ওই সময় ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম ছিলেন সংস্কারপন্থীদের মধ্যে।

সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক  নির্বাচিত হন। সেসময় তার সভাপতি ছিলেন মতিয়া চৌধুরী। ছাত্র ইউনিয়নের অপর অংশের সভাপতি হন রাশেদ খান মেনন।  সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের এক অংশের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সিপিবি’র চতুর্থ কংগ্রেসে মোহাম্মদ ফরহাদ দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে সাইফুদ্দিন মানিক নির্বাচিত হন সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে। মোহাম্মদ ফরহাদের মৃত্যুর পর তিনি দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালের ৩-৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় সিপিবি’র  পঞ্চম কংগ্রেস। ওই কংগ্রেসে সাইফুদ্দিন মানিকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নাহিদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।  ১৯৯৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় সিপিবির বিশেষ জাতীয় সম্মেলন (বিশেষ কংগ্রেস)। এই কংগ্রেসে সহিদুল্লাহ চৌধুরীকে সভাপতি ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে বর্তমান কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

ওই সময় সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিকসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকজন নেতা সিপিবি ছেড়ে দেন এবং সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ভাগবাটোয়া করা হয়। ১৯৯৩ সালের জুনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে বেরিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুল মান্নান আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

এছাড়া দলটি ভাঙ্গনের পর সিপিবি ছেড়ে ‘কমিউনিস্ট কেন্দ্র’ গঠন করেন ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, অজয় রায়সহ কয়েকজন নেতা। 

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর দলটি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে। দলের সম্পাদক নির্বাচিত হন খোকা রায় (সুধীন রায়)। এছাড়া  মণি সিংহ  নেপাল নাগ, ফণী গুহ, শেখ রওশন আলী, মুনীর চৌধুরী ও চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে গঠন করা হয় দলটির  জোনাল কমিটি।

এরপর ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ পাকিস্তানের  কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক করা হয় সাজ্জাদ জহিরকে। পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন খোকা রায়, কৃষ্ণ বিনোদ রায়, মণি সিংহ , নেপাল নাগ,  মনসুর হাবিব, জামালউদ্দিন বুখারী, মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং  মোহাম্মদ আতা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *