:

চট্টগ্রামে ৪কোটি টাকায় ডা: খাস্তগীর স্কুলের মাঠ বিক্রি: তদন্তে নেমেছে দুদকের টিম

top-news



চট্টগ্রামে চার কোটি টাকায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ডা: খাস্তগীর সরকাররি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ বিক্রী করে দেয়া খবরে টনক নড়েছে প্রশাসনের। জালিয়াতির তথ্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে দুদকের বিশেষ টিম। দুনীর্তি দমন কমিশন-দুদকের একটি টিম রোববার ২৪ আগষ্ট অভিযান চালিয়েছে স্কুলটিতে। এসময় তারা স্কুল কর্তৃপক্ষে সাথে কথা বলেন এবং স্কুল মাঠ পরিদর্শন করে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন।

২০২৪ সালে জাতীয়ভাবে সেরা স্কুল হিসাবে বিবেচিত হওয়া চট্টগ্রামের প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরানো বিদ্যাপিঠ ডা: খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ মাত্র ৪ কোটি টাকায় বিক্রী হয়ে যাওয়ার নিউজ প্লাস ২৪সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় গেল বৃহস্পতিবার। সংবাদ প্রচারের পরপরই চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ক্ষোভ জানান। এতে টনক নড়ে প্রশাসনের। এ প্রেক্ষিতে রোববার দুনীর্তি দমন কমিশন দুদকের টিম অভিযান চালায় স্কুলটিতে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে টিমটি কথা বলেন স্কুললের প্রধান শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষের সাথে। পরে  যে মাঠটি বিক্রী হয়ে যাওয়ার সংবাদ প্রচারিত হয় সেই  মাঠটি পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন তথ্য উপার্থ সংগ্রহ করেন। দুদকের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম জানান, স্কুলের সম্পত্তি কিভাবে ব্যক্তি  মালিকানায় কিভাবে গেল এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখছেন।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তে স্কুলের খেলার মাঠ বিক্রি সংক্রান্ত বিষয়ে অসংগতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন দুদকের তদন্ত টিমের সদস্যরা। তদন্ত দলটি ভূমি অফিস ও সাব রেজিষ্ট্রী অফিস থেকে অনান্য নথি পত্র সংগ্রহের কথাও জানার। এসব তথ্য  দুনীর্তি দমন কমিশনে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা হবে বলেও জানান দুদুকের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ যখন অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল সে সময় ১৯২৭ সালে স্কুলের দখলে থাকা খেলার মাঠটি অধিগ্রহণ করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়। সরকারি স্কুলের মাঠটি  কিভাবে ব্যক্তি মালিকানায় চলে গেলো এবং কিভাবে মাঠ বেচার হয়েছে তা তারাও জানতেন না বলে জানান। পরে জানাজানি হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন বলে জানান স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার। তিনি বলেছেন, ভূমিদস্য কিংবা দুষ্কৃতিকারা যাতে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠটি দখল করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

উনিশ শতকের ব্রাহ্ম আন্দোলনের অন্যতম নেতা অন্নদাচরণ খাস্তগীর ১৮৭৮ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৭সালে স্কুলটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হিসাবে উন্নীত করা হয়। অন্নদাচরণের জামাতা, চট্টগ্রামের সামাজিক আন্দোলনের পথিকৃৎ যাত্রামোহন সেন বিদ্যালয়কে জমি ও ভবন দান করেন। একই বছর স্কুলটি সরকারী করণ করা হয় এবং পরবর্তীতে বাংলা মাধ্যম স্কুল হিসাবে পাঠ্য কার্যক্রম শুরু করে।

২০০৬ সালে জনৈক সমীর সেন শত কোটি টাকার ৩৩শতকের মাঠটি জনৈক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলামের কাছে  ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় বিক্রী করে দেন। খেলার মাঠের ওই ক্রেতা সম্প্রতি চট্টগ্রামে ভূমি অফিসে নাম জারির আবেদন জানালে মাঠ বিক্রির তথ্য বেরিয়ে আসে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *