আগুনে ছাই ফ্রান্সের ইতিহাস: তাণ্ডবে ধ্বংস ১৪৩ বছরের পুরোনো টাউন হল ও ৪০০ বছরের প্রাচীন বাজার
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 18 Oct, 2026
জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন রূপ নিয়েছে ভয়াবহ দাঙ্গায়, যার লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হচ্ছে ফ্রান্সের অমূল্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
টানা চার সপ্তাহ ধরে চলা এই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গোটা ফ্রান্স যেন পরিণত হয়েছে এক রণক্ষেত্রে। এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে উগ্র বামপন্থী দাঙ্গাকারীদের দেওয়া আগুনে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে প্যারিস থেকে তিন ঘণ্টা দক্ষিণের শহর লিমোজেসের ১৪৩ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক 'লিমোজেস টাউন হল'। ১৮৮৩ সালে নির্মিত এবং ১৯৭৫ সালে ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্কের স্বীকৃতি পাওয়া নজরকাড়া এই ভবনটির ছাদ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং ভবনের বাইরের দুই-তৃতীয়াংশ পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রিফেক্ট মরিস বারাটে এই ধ্বংসযজ্ঞকে 'ঐতিহ্যের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয়' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। রাজপথের এই আন্দোলন কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তা বোঝা যায় শনিবারের পরিসংখ্যানে—দেশটির শতাধিক স্থানে প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন এবং সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকি গাড়ি পোড়ানো এবং পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ার এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে ফরাসি শিক্ষার্থীদের সাথে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।
দাঙ্গাকারীদের এই তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই ফ্রান্স হারিয়েছে তার আরেকটি অমূল্য রত্ন। রাজধানী প্যারিসে ১৬১৫ সালে রাজা ত্রয়োদশ লুইয়ের আমলে প্রতিষ্ঠিত, শহরের সবচেয়ে পুরোনো আচ্ছাদিত খাবারের বাজার 'মার্চে ডেস এনফ্যান্টস রুজেস' এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে লাগা এই আগুন নেভাতে ১৫০ জন দমকলকর্মীকে দীর্ঘক্ষণ আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ৪০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক বাজারের অন্তত ২০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যে বাজারটি শত শত বছর ধরে পর্যটক ও স্থানীয়দের পদচারণায় মুখর থাকতো, তা আজ শুধুই পোড়া কাঠ আর ছাইয়ের স্তূপ।
ধ্বংসের এই ভয়াবহতা নিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিদায় নিতে চলা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রজাতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং যারা দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। সব মিলিয়ে, বেঁচে থাকার মৌলিক দাবি আর অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে চরম সহিংসতার কারণে ফ্রান্স আজ আক্ষরিক অর্থেই তার শত শত বছরের অমূল্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে হারাচ্ছে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

