:

মাদুরোকে আটক ও মার্কিন অভিযান নিয়ে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ

top-news

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে সস্ত্রীক আটক এবং দেশটির তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনমত এখন আড়াআড়িভাবে বিভক্ত।

সিবিএস নিউজ এবং ইউগভ (YouGov)-এর একাধিক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে সমর্থনের অভাব, অন্যদিকে রয়েছে অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা ও আইনি প্রশ্ন।

মাদুরোকে আটকের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিচালিত জরিপগুলো বলছে, দেশটির সাধারণ মানুষ এই সামরিক হস্তক্ষেপের ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় কেন অভিযান চালিয়েছে, তা নিয়ে মার্কিনিদের ধারণাই তাদের সমর্থন বা বিরোধিতার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন ক্ষমতার বিস্তার। যারা এমনটা মনে করেন, তারা এই অভিযানের বিপক্ষে।

অন্যদিকে, যারা মনে করেন এই অভিযানের লক্ষ্য মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসীদের থামানো, তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে রিপাবলিকান এবং ‘মাগা’ (MAGA) সমর্থকরা এই যুক্তি দেখিয়ে অভিযানকে ‘সামরিক সাফল্য’ হিসেবে দাবি করছেন।

ইউগভ-এর সাতটি ভিন্ন জরিপের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা এই সামরিক অভিযান নিয়ে প্রায় সমানভাবে দ্বিধাবিভক্ত: ৩৬% মার্কিন নাগরিক মাদুরোকে উৎখাত করে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসাকে সমর্থন করছেন। ৩৯% মানুষ এই সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। ৩৬% মানুষ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এখন কার্যত ভেনেজুয়েলার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, তবে ৩৫% মানুষ তা মনে করেন না।

মাদুরোর প্রতি মার্কিন নাগরিকদের নেতিবাচক মনোভাব থাকা সত্ত্বেও, নিজের সরকারের ‘একতরফা’ হস্তক্ষেপের বিষয়টি তারা সহজভাবে নিচ্ছেন না। ৫১% মানুষ মনে করেন, এই বড় অভিযানের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত ছিল কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া। মাত্র ২৩% মনে করেন এর প্রয়োজন ছিল না। ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলায় আর কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক বলে মনে করেন অধিকাংশ নাগরিক। ৪৬% মানুষ মনে করেন, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ‘ভালো প্রতিবেশী’র মতো আচরণ করা। মাত্র ২৭% মানুষ গুরুতর অন্যায়ের ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

জনগণের মধ্যে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে। তারা মাদুরোকে পছন্দ করেন না, আবার ট্রাম্পের ওপরও পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না। ৩৬% মানুষ মনে করেন মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় ভালো হয়েছে। মাত্র ১০% মানুষ তাকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছিলেন।
মাদুরোকে সরানোর পরেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় কোনো জোয়ার আসেনি। ৫৩% মানুষ আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের বিচক্ষণতা নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন। এছাড়া, ৫০% মানুষ ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হিসেবে তার কার্যকারিতা নিয়ে খুব একটা আস্থাশীল নন।

মার্কিন অভিযান ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। ৩৪% মনে করেন পরিস্থিতির উন্নতি হবে, আর ৩৫% মনে করেন এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এছাড়া, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক চান না যে ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী বা ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ থাকুক।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতি আগ্রহ কমলেও, রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থনের হার বেড়েছে। সব মিলিয়ে, মাদুরো আটক হলেও ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণই এখন বিভ্রান্ত ও বিভক্ত।

সূত্র: সিবিএস নিউজ ও ইউগভ পোল (৩-৭ জানুয়ারি, ২০২৬)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *