২০২৬ সালের চ্যালেঞ্জ: অভিশংসন এড়াতে জয়ের বিকল্প দেখছেন না ট্রাম্প
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 07 Jan, 2026
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রিপাবলিকানদের অবশ্যই ২০২৬ সালের কংগ্রেসনাল মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততে হবে—নইলে তিনি ডেমোক্র্যাটদের দ্বারা অভিশংসিত হবেন।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, "আপনাদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততেই হবে, কারণ আমরা যদি না জিতি, তবে অবস্থা হবে—মানে, আমাকে অভিশংসন করার একটা কারণ ওরা খুঁজে বের করবেই। আমি অভিশংসিত হব"।
নভেম্বরের নির্বাচনের আগে—যা তার এজেন্ডা থমকে দিতে পারে এবং তাকে কংগ্রেসনাল তদন্তের মুখে ফেলতে পারে—ট্রাম্প মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সামান্য ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণে থাকা তার মিত্রদের খোঁচা দেন এবং উৎসাহিত করেন। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিন ভোটারদের কাছে তার লিঙ্গ (জেন্ডার), স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্বাচনী সততা বিষয়ক নীতিগুলো তুলে ধরার জন্য তিনি ভেদাভেদ ভুলে কাজ করার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্প বলেন, "তারা বলে, প্রেসিডেন্সিতে জিতলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারতে হয়। আমি আশা করি আপনারা আমাকে বুঝিয়ে বলবেন, জনগণের মনে আসলে কী চলছে"।
ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে এক দুঃসাহসী সামরিক অভিযানের পরপরই, ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে, বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে নজর দেওয়ার চাপ বেড়েছে। মঙ্গলবার ট্রাম্প এই বিষয়ে খুব কমই কথা বলেন, শুধু জানান যে তিনি ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে এই সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন এবং রিপাবলিকানদের উচিত শক্তিশালী মার্কিন শেয়ার বাজারের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে প্রচারণা চালানো।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে তার সমর্থকদের হামলার বিষয়ে তিনি খুব সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন, যখন ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে দাঙ্গার পঞ্চম বার্ষিকী পালন করার সময় অভিযোগ করেন যে রিপাবলিকানরা ইতিহাসকে "চাপা দেওয়ার" (whitewash) চেষ্টা করছে।
আইনপ্রণেতারা জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসে মিলিত হন, যা কংগ্রেস দ্বারা সনদপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। ট্রাম্প গত বছর এর বোর্ড থেকে ডেমোক্র্যাট নিয়োগপ্রাপ্তদের সরিয়ে দেন এবং বাকি ট্রাস্টিরা ডিসেম্বরে কেন্দ্রের নামে সাবেক প্রেসিডেন্ট কেনেডির পাশাপাশি ট্রাম্পের নাম অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে ভোট দেন।
সেখানে ৮৪ মিনিটের এক অগোছালো ভাষণে ট্রাম্প জনসমক্ষে নাচ বন্ধ করতে তার স্ত্রীর দেওয়া পরামর্শের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বেশ কিছু মিথ্যা তথ্য পুনরাবৃত্তি করেন, যার মধ্যে রয়েছে—গত সাত মাসে ওয়াশিংটনে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। অথচ ওয়াশিংটন পুলিশ নববর্ষের প্রাক্কালে একটি খুনের কথা জানিয়েছে এবং বলেছে ২০২৫ সালে ১২৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি বলেন "আমি খুব বেশি খেলার সুযোগ পাই না", অথচ তিনি রবিবারও গলফ খেলেছেন এবং তার মেয়াদে নিয়মিতই খেলেন।
ট্রাম্প ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে রিপাবলিকানরা সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে "ঐতিহাসিক মধ্যবর্তী বিজয়" ছিনিয়ে আনবে, তবে দলের নির্দেশ মেনে না চলা কিছু সদস্যের প্রতি অসন্তোষও প্রকাশ করেন। নভেম্বরে হাউসের প্রতিটি আসনে এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ২০০৬ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের পর থেকে প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টরা হাউসের আসন হারিয়েছেন।
ট্রাম্প তার দলকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ বার্তার বিরুদ্ধে আরও জোরালোভাবে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানান, যেহেতু সংখ্যালঘু দল (ডেমোক্র্যাটরা) মেয়াদোত্তীর্ণ ভর্তুকি বাড়ানোর পক্ষে ওকালতি করছে যা ওবামাকেয়ার বীমাকে লাখো মার্কিনির জন্য সাশ্রয়ী করেছিল।
তিনি বলেন, রক্ষণশীল সদস্যদের হাইড অ্যামেন্ডমেন্টের বিধান অন্তর্ভুক্ত করার জেদ নিয়ে "কিছুটা নমনীয়" হওয়া উচিত, যা করদাতাদের অর্থ গর্ভপাত সেবায় ব্যয় হওয়া প্রতিরোধ করে।
তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেন, "এই সব বিষয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আপনারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন। এর একটা সমাধান বের করুন"।
নির্বাহী ক্ষমতা বাড়াতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ
২০১৭-২০২১ মেয়াদে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্প দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা তার ইউক্রেন নীতি এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার জন্য তাকে দায়ী করেছিল। উভয় ক্ষেত্রেই সিনেট তাকে খালাস দেয়।
কয়েকজন হাউস ডেমোক্র্যাট ইতিমধ্যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে অভিশংসনের প্রস্তাব এনেছেন, যা হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে।
বর্তমানে রিপাবলিকানরা মাত্র পাঁচ ভোটের ব্যবধানে হাউস নিয়ন্ত্রণ করছে, যা ট্রাম্প এবং স্পিকার মাইক জনসন উভয়কেই হতাশ করেছে। ট্রাম্প অভিবাসন থেকে শুরু করে সামরিক পদক্ষেপ এবং ফেডারেল প্রবিধান—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এককভাবে কাজ করার জন্য নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হলেও, ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক ব্যবহারের বিষয়টি সেই ক্ষমতা খর্ব করেছে কিনা, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় শীঘ্রই আসার কথা রয়েছে।
হাউস রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের প্রতি চরম আনুগত্য দেখিয়েছে, ব্যয় এবং অন্যান্য বিষয়ে কংগ্রেসের অনেক কর্তৃত্ব প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছে। কিন্তু এখন তারা কিছুটা স্বাধীনতার আভাস দিতে শুরু করেছে। গত মাসে কলোরাডো এবং ফ্লোরিডায় অবকাঠামো প্রকল্প বাতিল করে ট্রাম্প যে ভেটো দিয়েছিলেন, তা উপেক্ষা (override) করতে হাউস এই সপ্তাহে ভোট দিতে পারে, তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যাবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

