চট্টগ্রাম বন্দরে দু'টি বিদেশী জাহাজে সংর্ঘষ
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 14 Aug, 2026
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে গমবাহী এবং জ্বালানি তেলবাহী দুটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী গমবাহী একটি জাহাজটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজের ইঞ্জিন রুমে পানি ঢুকে পড়ে।
তবে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি বড় ধরনের ক্ষতির থেকে রক্ষা পেয়েছ। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বন্দরের বহির্নোঙরের ‘আলফা’ অ্যাঙ্করেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান,, বেসরকারি আমদানিকারকের জন্য ৫২ হাজার টন গম নিয়ে ‘সানশাইন’ নামের বাল্ক ক্যারিয়ারটি বহির্নোঙরে নোঙর করে । এ সময় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য ৩৩ হাজার টন গ্যাস অয়েল (ডিজেল) নিয়ে ‘সি স্পাইক’ নামের ট্যাঙ্কারটি নোঙর করার সময় সাগর উত্তাল থাকায় একপর্যায়ে অয়েল ট্যাঙ্কারটি সানশাইন জাহাজকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে সানশাইন জাহাজের খোলের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে পানি ডুকে পড়ে। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পাইলট, উদ্ধারকারী টাগবোট ‘কাণ্ডারি-৮’ এবং কোস্ট গার্ডের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা সানশাইন থেকে পানি সেচসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, এমটি সি স্পাইক-এর ইঞ্জিন রুমে পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক এক বর্গমিটার ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করায় সাময়িক ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। তবে ইমারজেন্সি ব্যাটারির সাহায্যে জাহাজের ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। জাহাজটি স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙ্গরের ১০ শ্যাকেল করে ক্যাবল ছাড়া হয়েছে।
ঘটনার পর পরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড দ্রুততম সময়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট 'কান্ডারী-৮' ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। দ্রুততম সময়ে জ্বালানি তেল খালাসের জন্য শিপিং এজেন্ট (প্রাইড শিপিং) এবং ফাটল মেরামত ও উদ্ধারের জন্য স্যালভেজ কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাহাজের মাস্টারের সাথে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজে বন্দরের শক্তিশালী টাগবোট, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের দল মোতায়েন করা হয়।
দুর্ঘটনার পর ‘সি স্পাইক’ ট্যাঙ্কারটি নোঙর করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, বন্দরের নিজস্ব পাইলটের পরিবর্তে ভাড়া করা ‘বে পাইলট’ দিয়ে ট্যাঙ্কারটি নোঙর করানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সি স্পাইক-এর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ‘প্রাইড শিপিং’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বহির্নোঙরের বাইরের দিকে থাকা জাহাজের ক্ষেত্রে বন্দরের নিজস্ব পাইলট নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। সাধারণত তাঁরা বে পাইলট দিয়েই জাহাজ পরিচালনা করেন।
দুর্ঘটনার কারণ ও জাহাজ দুটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

