বেতন চাওয়ায় বরখাস্ত: ইটিভির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়াম্যানসহ কর্মকর্তাদের আরেকটি মামলায় শোকজ
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 12 Oct, 2026
বেতন-ভাতা বকেয়া পাওয়াসহ তা পরিশোধের দাবিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ক্যামেরাম্যান বিপ্লব মজুমদারকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আদালত।
চট্টগ্রামের দ্বিতীয় শ্রম আদালত-এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) বেগম জেবুননেছা সোমবার ১২ অক্টোবর ইটিভির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও মানবসম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতির আদেশটির ওপর কেন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না, তা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, একুশে টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরেরা ক্যামেরাম্যান বিপ্লব মজুমদার দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে একুশে টেলিভিশনে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু বিগত আগস্ট ২০২৪ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা, ঈদ বোনাস ও ওভারটাইমের টাকা পরিশোধ না করে উল্টো হয়রানি করতে থাকে কর্তৃপক্ষ। বকেয়া পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি দ্বিতীয় শ্রম আদালতে মজুরী পরিশোধ মামলা (মামলা নং-২০/২০২৬) দায়ের করেন, যা আদালত আমলে নিয়ে ১৬ জুন সমন জারি করে।
আদালতের সমন জারির সংবাদ পেয়ে ইটিভি কর্তৃপক্ষ চরম আক্রোশ ও ক্ষিপ্ত হয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার (প্রশাসন ও মানব সম্পদ) মো. আল-আমিন স্বাক্ষরিত গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখের এক পত্রে (সূত্র: ইটিভি/এইচআর/বরখাস্ত/২০২৬-২৫৫) বিপ্লব মজুমদারকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চূড়ান্ত বরখাস্ত (Dismissal) করা হয়।
আদালতে প্রদত্ত আবেদনে বিপ্লব মজুমদার জানান, এই বরখাস্তের আদেশের পেছনে কোনো আইনগত ভিত্তি বা সঠিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২৪ ধারা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই একপেশেভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমনকি আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে মামলার কার্যধারা চলাকালে পূর্বানুমতি ছাড়া চাকুরির শর্ত পরিবর্তন বা বরখাস্ত করা সম্পূর্ণ বেআইনি, যা শ্রম আইনের ২২৮(১) ও ১৯৫(থ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ অবস্থায় মূল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইটিভি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিপ্লব মজুমদারের বরখাস্ত আদেশের কার্যকারিতা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২১৬(১)(ছ) ধারা মতে স্থগিত রাখার প্রার্থনা জানিয়ে আদালতে আবেদন করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। আদালতে বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবি এডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী এবং এডভোকেট শান্তা চক্রবর্তী।
আজ সোমবার ১২ অক্টোবর আদালত শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইটিভি কর্তৃপক্ষকে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন এবং আগামী ০৩ নভেম্বর ২০২৬তারিখ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এই আদেশের ফলে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে এক নতুন মোড় নিলো।
এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জেষ্ঠ্য সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস'র দায়ের করা অপর একটি মামলায় একুশে টেলিভিশন-ইটিভির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানকে শোকজ করে এবং ১৫কার্যদিবেসর মধ্য শোকজের জবাব দিতে নির্দেশ দেয়।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

