চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ‘আমাদের মূল লক্ষ্য দেশ গঠন ও কর্মসংস্থান’
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 09 Aug, 2026
বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে গৃহীত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
সরকার দুস্থ মানুষের জন্য কেবল সাময়িক সাহায্যের বদলে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্থায়ী আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিতে বিশ্বাস করে। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে নতুন নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় 'ফ্যামিলি কার্ড' এবং 'কৃষক কার্ড' বিতরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সরকার গঠনের প্রথম মাসেই শুরু হওয়া পাইলট প্রজেক্ট সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে দেশব্যাপী ৪১ লাখ পরিবারের প্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
বাঁশখালী উপজেলায় এ অর্থবছরেই ১০-১২ হাজার পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে। পাশাপাশি স্থানীয় লবণচাষিদের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে আলোচনার মাধ্যমে লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের আশ্বাস দেন তিনি।
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী অঞ্চল পর্যন্ত শিল্পবিপ্লব ঘটানো হবে।
চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চলে শত শত কলকারখানা গড়ে উঠলে স্থানীয় বেকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। এই অর্থনৈতিক ভিত্তি দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করা হবে। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ বেড থেকে ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় সংসদে দেশের আগামী ১০ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা পেশ করার কথা জানান তিনি।
বিনিয়োগ ও সার্বিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হওয়ার পর আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। এখন একমাত্র লক্ষ্য দেশ গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং হেলিকপ্টারযোগে মীরসরাই-মাতারবাড়ী শিল্প করিডোর পর্যবেক্ষণ করেন।
হেফাজত ইসলামীর আমীরের সাথে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী
বাঁশখালীর জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যান। বেলা সাড়ে ৩টায় হেলিকপ্টারযোগে পেহেলগাজী দিঘীর মাঠে পৌঁছালে সাধারণ মানুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। সেখান থেকে সড়কপথে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সফরসূচি অনুযায়ী, এরপর হাটহাজারীর দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন সরকারপ্রধান
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

