মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়: ইরান-ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সমীকরণ ও বিশ্বব্যবস্থার সংকট
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 05 Mar, 2026
২০২৬ সালের মার্চ মাসের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতা নয়, এটি কার্যত একটি বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেওয়ার উপক্রম হয়েছে। গাজা ও লেবাননের সীমানা ছাড়িয়ে সংঘাত এখন সরাসরি ইরান বনাম ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সরাসরি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে ইরান ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বিশাল ‘প্রতিরোধ বলয়’ গড়ে তুলেছে। এই যুদ্ধ কি কেবল কয়েক সপ্তাহের সামরিক উন্মাদনা, নাকি এটি এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ের সূচনা? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন সেই সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিকে।
১. যুদ্ধের মূল কেন্দ্রস্থল: ইরান এবং ইসরায়েল
ইরান: এই মুহূর্তে যুদ্ধের মূল লক্ষ্যবস্তু ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইরানে ১ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানে প্রায় ২ হাজার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার বড় অংশই রাজধানী তেহরানে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির মতে, তেহরানসহ ইসফাহান, কোম ও উরমিয়া প্রদেশেও হামলা হয়েছে, যেখানে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, হামলাগুলো কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হলেও বেসামরিক মানুষও এর শিকার হচ্ছে।
ইসরায়েল: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি দেখালেও ইসরায়েলের জন্য বাস্তবতা ভিন্ন। গত কয়েক বছরের ক্রমাগত অভিযানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) আজ ক্লান্ত। গাজা ও লেবাননে ক্লান্তি সত্ত্বেও তারা একটি দীর্ঘস্থায়ী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করলেও, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হাইফা ও তেল আবিবসহ অন্যান্য শহরগুলো টানা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে, যা সাধারণ নাগরিকদের বাংকারে জীবন কাটাতে বাধ্য করছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা ও মজুত সংকট: ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’, ‘ডেভিডস স্লিং’ এবং ‘অ্যারো’ ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হলেও এর ব্যয় আকাশচুম্বী। প্রতিটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে যে ইন্টারসেপ্টর ছুড়তে হয়, তার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকলে ইসরায়েলের পক্ষে আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত।
জনমানসিকতা: দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানকে 'অশুভ শক্তি' হিসেবে চেনার যে মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা ইসরায়েলি সমাজকে দেওয়া হয়েছে, তার ফলে বর্তমানে সেখানে সামরিক উন্মাদনা তুঙ্গে। তবে বিশ্লেষক ড্যানিয়েল বার-তালের মতে, এই 'তলোয়ারের ওপর ভর করে বেঁচে থাকা' কতদিন টেকসই হবে, তা নির্ভর করছে সাধারণ নাগরিকদের সহনশীলতার ওপর।
২. আঞ্চলিক সামরিক মানচিত্র: মধ্যপ্রাচ্যের বারুদ ঘর
আল জাজিরার সংবাদদাতা এবং সামরিক বিশ্লেষক হামজে আত্তারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি এখন আর কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
লেবানন ও হিজবুল্লাহ: ইসরায়েল কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, লেবাননেও বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্ত থেকে ৬ কিলোমিটার ভেতরে খিয়াম শহরে লড়াই করছে। বৈরুতসহ পূর্ব লেবাননের বালবেক শহরে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছে। পাল্টায়, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের সাফেদ এবং তেল আবিবের তেল হাশমোর ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। লেবাননের সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মতে, অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় হামলা: ইরানের পাল্টা হামলার বড় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো।
কাতার: কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
দুবাই: দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটে একটি ইরানি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে, যা পুরো আমিরাতে মার্কিন দূতাবাসগুলো বন্ধ করতে বাধ্য করেছে।
ইরাক ও সিরিয়া: বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস এবং কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে অস্থায়ী মার্কিন অপারেশন সেন্টারে হামলা হয়েছে, যেখানে ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি: ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যা এখন সরাসরি হুমকির মুখে।
শ্রীলঙ্কা: ভারত মহাসাগরেও এই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর কথা পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।
৩. বিশ্বব্যাপী পক্ষাবলম্বন: কে কার সাথে?
এই যুদ্ধ বিশ্বশক্তিগুলোকে দুটি প্রধান পক্ষে বিভক্ত করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বলয়: এই যুদ্ধের প্রধান চালিকাশক্তি। তারা ইরানের প্রায় সব স্থাপনার আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় এবং ৫০ হাজারের বেশি সেনা ও দুটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতে, ইসরায়েল ইরানে হামলা করবে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তারা অগ্রিম হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার বদলা হিসেবেও এই যুদ্ধকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইসরায়েল: সরাসরি হামলা এবং লেবাননে স্থল অভিযানের মূল চালক। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়ে সতর্ক করলেও, সাধারণত এই দেশগুলো পশ্চিমা অক্ষের সাথেই রয়েছে।
ইরান এবং তার মিত্র বলয়: রাশিয়া ও চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়লেও কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থন জোগাচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলকে দ্রুত হামলা বন্ধ করতে বলেছেন এবং ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলে তারা বিশ্বাস করেন। তারা জাতিসংঘের উদ্যােগকেও সমর্থন করছেন।
আঞ্চলিক মিত্র: সিরিয়া, ইয়েমেনের হুথিরা এই পক্ষের সক্রিয় অংশ। এরা একটি 'প্রতিরোধ বলয়' হিসেবে চিহ্নিত। হুথিরা ইতিমধ্যে লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে হামলা জোরদার করেছে।
কুয়েত, সৌদি আরব ও তুরস্ক: যদিও এই দেশগুলো সরাসরি ইরানের পক্ষে নয়, কিন্তু তাদের ভূখণ্ডে বা আকাশসীমায় এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে, সৌদি আরবের রাস তানুরার তেল শোধনাগারে হামলা হয়েছে। তুরস্কও তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশের আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
নিরপেক্ষ বা প্রভাবহীন দেশগুলো: ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল: এই দেশগুলো জাতিসংঘের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চাপ দিচ্ছে, কিন্তু সরাসরি কোনো পক্ষের সমর্থনে আসেনি। ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলার ঘটনায় ভারত বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
৪. বিশ্লেষণ: যুদ্ধের গতিপথ এবং ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার লক্ষণ নেই। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মতে, "ইরানে হামলা সবে শুরু হয়েছে।" অন্যদিকে, সামরিক বিশ্লেষক হামজে আত্তার এবং আলী আলিজাদেহর মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শেষ পর্যন্ত ইরানেরই সুবিধা হবে। এর প্রধান কারণ, পশ্চিমা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার তুলনায় ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো অনেক সস্তা।
* ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিমা প্রযুক্তির তুলনায় অনেক সস্তা।
* যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন ঠেকাতে লাখ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করতে হচ্ছে।
* তেহরান প্রতি মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে। ফলে এই 'ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে' ইরান যত বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে, ইসরায়েল ও আমেরিকার অর্থনৈতিক বোঝা তত বাড়বে।
এই 'ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে' যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপুল ব্যয় তাদের অভ্যন্তরীণ জনমত এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাতিসংঘের উদ্যােগ ইতিমধ্যে স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ বিশ্বব্যাপী ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ এই যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করবে।
৫. বিশ্বব্যাপী ক্ষোভ ও কূটনৈতিক স্থবিরতা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই যুদ্ধ বন্ধের জোরালো দাবি উঠলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাতে কর্ণপাত করছে না। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাশিয়া ও চীন স্পষ্টভাবে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বকে নতুন এক স্নায়ুযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আমেরিকা বিরোধী জনমত: কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি এবং দুবাইয়ে মার্কিন স্থাপনায় হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার উপস্থিতি নিয়ে খোদ মার্কিন কংগ্রেসেই প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাট নেতা এলিজাবেথ ওয়ারেন একে 'মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে শুরু করা অবৈধ যুদ্ধ' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
৬. অর্থনৈতিক ধস ও বাজেট ঘাটতি
ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন বহুমুখী সংকটের মুখে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যুদ্ধের ব্যয় যথাক্রমে ৩,১০০ কোটি এবং ৫,৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
জ্বালানি, পরিবহন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে ইসরায়েলের জন্য।
৭. সম্মুখ সমর ও স্থল অভিযানের ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র মাধ্যমে ইরানের আকাশসীমা দখলের ঘোষণা দিলেও স্থল অভিযান নিয়ে সংশয় কাটছে না। স্টিমসন সেন্টারের গবেষক ক্রিস্টোফার প্রেবল সতর্ক করেছেন যে, ইরান ইরাকের চেয়ে চার গুণ বড় এবং দেশটির ভৌগোলিক গঠন বিদেশি সেনাবাহিনীর জন্য এক মরণফাঁদ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো সামরিক প্রযুক্তির জোরে যুদ্ধের শুরুর দিকে আধিপত্য বিস্তার করবে, কিন্তু ইরান যদি এই লড়াইকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে পারে, তবে পাল্লা তেহরানের দিকেই ঝুঁকবে। শেষ পর্যন্ত এটি কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই নয়, বরং ‘স্থিতিশীলতার লড়াই’ হয়ে দাঁড়াবে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

