:

‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর কোনো পরিকল্পনা নেই, ৮ বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

top-news

বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে সর্বাত্মক সচেষ্ট ও তৎপর রয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আধুনিক ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিসেম্বর মাস ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতার গুঞ্জন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, তবে সব বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব আছে এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রভাবশালীদের চাপ এবং পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “পুলিশ অপরাধ দমন করতে গেলে মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়, এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। অপরাধীদের দমনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কেউ যদি আসামিকে পালাতে বা লুকাতে সহায়তা করে থাকে, তথ্য পেলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে অপরাধের ধরন পাল্টেছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ডিজিটাল দুনিয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বর্তমানে নানা প্রতারণা থেকে শুরু করে শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো জটিল অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব আধুনিক অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই।”

এ লক্ষ্যে সরকার দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুততম সময়ে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কেবল বিভাগীয় পর্যায়েই নয়, পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ডিজিটাল অ্যানালাইসিস কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

চট্টগ্রামে সিআইডির এই হাইটেক সাইবার অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সহায়তার জন্য কোরীয় সরকার, রাষ্ট্রদূত এবং সফররত বিশেষজ্ঞ টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি জানান, গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের পৃথক ‘সাইবার ইউনিট’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

এছাড়াও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, নগর পুলিশ কমিশনারসহ পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *