:

চট্টগ্রামে জ্বলাবদ্ধতা নিরসন: মেয়রের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটি

top-news

চট্টগ্রাম মহানগরীর  জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে প্রধান ১৯ সদস্যে সম্বনয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। 

টানা দু'দিনের বৃষ্টিতে ডুবে থাকা বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিত পর্যবেক্ষণ এবং জলাবদ্ধাতা নিরসন প্রকল্পর কাজ পরিদর্শনের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম  এই কথা জানান।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন কার্যক্রম ও খাল সংস্কার প্রকল্প পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।  এসময় প্রতিমন্ত্রী নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে খাল খনন, ডাইভারশন, রেগুলেটর ও সড়ক উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন ।

এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগর সরকার ব্যবস্থা এখনো কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও বর্তমান বাস্তবতায় মেয়রের নেতৃত্বে গঠিত সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। এর ফলে সব সংস্থার সমন্বয়ে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামবাসী স্থায়ী স্বস্তি পাবে।


চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় বৃদ্ধি ও সময় বৃদ্ধির বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জনান প্রতিমন্ত্রী। 

২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপের তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। কোথায় কী কারণে ব্যয় বেড়েছে কিংবা জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়তে পারে আভাষ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান  আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে খাল সংস্কার প্রসঙ্গে  প্রতিমন্ত্রী জানান,   ইতোমধ্যে ৩৬টি খাল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সৌন্দর্যবর্ধন, ওয়াকওয়ে সচল রাখা এবং খালে যাতে ময়লা-আবর্জনা না পড়ে, সেজন্য নেটিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খাল হস্তান্তরের পর এক বছর সেনাবাহিনী ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও তিনি জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত: বিগত সরকারেরর আমলে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরমধ্য প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত হবার পরে চট্টগ্রামবাসী জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সুফল পায়নি। বরং অল্প বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম কোমর পানিতে তলিয়ে যায়।
#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *