সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা :আইন শৃংখলাবাহিনীর অভিযান
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 25 May, 2026
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ।
সোমবার ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে দুই ঘণ্টা গুলিবিনিময় হয়েছে।
ভোর রাতের দিকে সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা ভোররাতে জঙ্গল সলিমপুরে আচকা হামলা চালিয়ে র্যাবের ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালাতে না পারে, সেই জন্য বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে দেয়া হয়।
এসময় আইন শৃংখলা বাহিনী নন-লিথাল (প্রাণঘাতী নয়) অস্ত্র ব্যবহার করে। গোলাগুলির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এঘটনার পর ভোরে আইন শৃংখলা বাহিনী জঙ্গল সলিমপুরে ষাড়াশি অভিযান চালায়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত কয়েকটি মোটর সাইকেল,ড্রাম ট্রাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হতাহত কিংবা কাউকে আটক করার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জঙ্গল সলিমপুরে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যদের একটি চক্র সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে অবৈধভাবে জমির কাগজ তৈরি, জমি দখল ও হস্তান্তরসহ নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল বলে আইন শৃংখলা বাহিনী জানিয়েছে।
এর আগে গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান চালায় আইন শৃংখলা বাহিনী। এ অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৮৭ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ১৪৬ জন সদস্য, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৮০০ জন সদস্য, আরআরএফ চট্টগ্রামের ৪০০ জন সদস্য, ফেনী জেলা পুলিশের ১০০ জন সদস্য, পার্বত্য জেলার ৩০০ জন সদস্য, এপিবিএনের ৩৩০ জন সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১২২ জন সদস্য এবং র্যাবের ৩৭১ জন সদস্যসহ সর্বমোট ৩ হাজার ১৮৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এসময় সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযানের পর এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও র্যাবের একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

