:

রয়টার্সকে তারেক রহমান: ‘জাতীয় সরকার’ নয়, একক জয়ের লক্ষ্য বিএনপির

top-news

রয়টার্স: বাংলাদেশের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ঘোষণা দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তাঁর দল শতভাগ আত্মবিশ্বাসী এবং ভোটের পর কোনো ‘জাতীয় সরকার’ নয়, বরং একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতিতে সংসদীয় গণতন্ত্র দেখতে চান তিনি।

 ‘জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার’ প্রস্তাব নাকচ

সাক্ষাৎকারে ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেওয়া ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়ে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে? আমি জানি না তারা কতগুলো আসন পাবে, তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী দল হিসেবে থাকবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের দীর্ঘদিনের জোটবদ্ধ রাজনীতির আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্য

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ের আশা করছেন। দলটি ২৯২টি আসনে সরাসরি লড়ছে। তারেক রহমান নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা না জানালেও বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট আসন থাকবে।” যদিও বিভিন্ন জনমত জরিপে জামায়াত জোট এবং নতুন প্রজন্মের ‘জেন-জি’ দলগুলোর পক্ষ থেকে বিএনপিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছে।

কূটনীতি: ভারত না চীন?

শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েন এবং চীনের বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কথা বলেন। তিনি বলেন:

অর্থনৈতিক প্রাধান্য ১৭.৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদার প্রয়োজন।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা:  “বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে যারা উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, তাদের সাথেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে; কোনো বিশেষ দেশের সাথে নয়।”

৪. হাসিনা পরিবারের রাজনীতি ও রোহিঙ্গা ইস্যু

তারেক রহমান আওয়ামী লীগ নেতাদের বা শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্নে উদারতা দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণ যদি কাউকে স্বাগত জানায়, তবে যে কারোরই রাজনীতি করার অধিকার আছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, মিয়ানমারে পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে থাকতে পারবে। তিনি জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের বদলে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন।

বিশ্লেষণ: তারেক রহমানের এই অবস্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১. গণতান্ত্রিক কাঠামো: তিনি ক্ষমতার ভাগাভাগির চেয়ে সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন।
২. আন্তর্জাতিক ইমেজ: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং হাসিনাপুত্রদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে তিনি নিজেকে একজন ‘উদারপন্থী গণতান্ত্রিক নেতা’ হিসেবে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন।
৩. তরুণ ভোটার: জামায়াত ও নতুন দলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *