:

চট্টগ্রাম বন্দরে মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারো ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে আন্দোলনরত সংগ্রাম পরিষদ

top-news

টানা তৃতীয় দিনের মত কর্মবিরতীর মধ্যে  চট্টগ্রাম বন্দরে মঙ্গলবার থেকে আবারো ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতীর ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।

দুপুরে বন্দর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই কর্মসুচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন।

তাদের দাবি, সরকার এনসিটিতে বিদেশী অপারেটর নিয়োগ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের বেআইনি ভাবে যে বদলীর আদেশ দিয়েছে তা প্রত্যাহার করা না হলে আরো কঠোর কর্মসুচি দেয়া হবে।এসময় অনান্যদের মধ‌্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদ নেতা হুমায়ুন কবিরসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

এসময় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, কর্মবিরতী চলাকালে চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। 

এর আগে সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে টানা তৃতীয় দিনের কর্মসুচি চলাকালে বন্দর কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। 

বন্দরের  নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে  টানা তৃতীয় দিনের মতো আট ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

এদিকে, আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবির সমর্থনে সকালে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় কালোপতাকা মিছিল করছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। সকালে কালো পতাকা নিয়ে বন্দর ভবনের দিকে মিছিলটি এগিয়ে গেলে পুলিশ মিছিলটিকে বাধা দেয়। এসময় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ বন্দর শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

এর আগে গত শনিবার থেকে দু’দিনের কর্মসুচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতারা। এরমধ্যে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিভিন্নস্থানে বদলী আদেশ জারি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা আরো বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে এবং আজ সোমবারও তৃতীয় দিনের মত কর্মসুচির ডাক দেয়।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানো-নামানো এবং ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর ও ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) মধ্যে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ রয়েছে।

এদিকে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দুই দফায় ১২ জন কর্মচারীকে বদলির আদেশ জারি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনকারীদের দাবি, ওই কর্মচারীরা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এ নিয়ে বদলি হওয়া কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ জনে।

শ্রমিক দলের এক নেতা অভিযোগ করেন, আন্দোলনে যুক্ত প্রায় ২০০ কর্মচারীর একটি তালিকা তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে বদলি করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, চাপ দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *