দুদকের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হল সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 28 Jan, 2026
দুনীর্তি দমন কমিশন-দুদকের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হল সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে। অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে গত ১৫জানুয়ারী দুদক মামলাটি দায়ের করে ছিল। এ প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ২৫ জানুয়ারী আদালতে আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে দেড় মাস আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার সেই আবেদনের শুনানিতে তাঁকে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ জজ আদালতে হাজির করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে বিষণ্ন হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। একপর্যায়ে নিজের আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনার সময় তাঁকে আটক করে রাখার কোনো প্রতিবাদ না হওয়ায় সাংবাদিকদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে মামলাকারী কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কারাবন্দী আনিস আলমগীরকে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে তাঁকে হেলমেট, বুলেট প্রুফ জ্যাকেটসহ হাতকড়া পরানো অবস্থায় ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশের পাহারায় নেওয়া হয় ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে। কাঠগড়ায় ওঠানোর আগে হেলমেট, হাতকড়া ও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট খুলে রাখা হয়।
এ সময় আদালতে অন্য মামলার শুনানি চলছিল। কাঠগড়ার পেছনের অংশে দাঁড়ান আনিস আলমগীর। নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন তিনি। আইনজীবী নিয়াজ উদ্দিনকে তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক জেলখানায় অথচ কেউ কিছু লেখেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার নেই। বিনা কারণে তাঁকে জেলহাজতে আটক রাখা হয়েছে। একটা প্রতিবাদ পর্যন্ত করা হয়নি।
আনিস আলমগীর। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানি হয়।
দুদকের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান। আনিস আলমগীরের পক্ষে আইনজীবী নাজনীন নাহার ওকাতলনামা গ্রহণ করেন। এ সময় নাজনীন আদালতকে বলেন, ‘আনিস আলমগীরের মামলায় তাঁর যে ঠিকানাটা এখানে দেওয়া হয়েছে, সেটা আগের ঠিকানা। সেখানে উনি থাকেন না। এ জন্য আদালতের কাছে সেটি পরিবর্তন করতে আবেদন করছি।’
আদালত তাঁর আবেদন গ্রহণ করে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এরপর পুলিশের সদস্যরা পুনরায় আনিস আলমগীরকে হেলমেট, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও হাত কড়া পরিয়ে মহানগর হাজতখানায় নিয়ে যান। পরে তাঁকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাবাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় পাঁচ দিন পুলিশ রিমান্ডে থাকার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসাবে তাঁর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এতে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এ অর্থকে আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এজাহারে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

