খাগড়াছড়িতে সহিংস ঘটনার জন্য প্রতিবেশি দেশ ও ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন আছে- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 29 Sep, 2025
দেশে দুর্গাপূজার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতেই একটি মহল খাগড়াছড়িতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই মহলটি চাইছে উৎসব যেন ধর্মীয় উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন হতে না পারে।
আজ সোমবার ঢাকায় পুরানা রমনা থানা ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'একটি মহল চাইছে উৎসব যেন ধর্মীয় উদ্দীপনা ও উৎসবমুখরভাবে হতে না পারে। এজন্য একটা মহল চেষ্টা করছে। তারাই খাগড়াছড়িতে এটা ঘটানোর চেষ্টা করছে।'
খাগড়াছড়ির অস্থিরতায় বহিরাগত ইন্ধন ও অস্ত্রের যোগানের বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'প্রতিবেশি রাষ্ট্র এবং ফ্যাসিস্টদের ইন্ধনে এই ঘটনাটা ঘটাচ্ছে। এটা যেন ঘটাতে না পারে সেজন্য আমরা সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিচ্ছি।'
তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বলেন, 'কিছু সন্ত্রাসী পাহাড়ের ওপর থেকে ফায়ার করছে এবং এই অস্ত্রগুলো বাইরে থেকে আসছে।'
তবে খাগরাছড়ির পরিস্থিত এখন মোটামুটি সন্তোষজনক আছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, দুর্গাপূজা চলার সময় যেন কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, রাস্তাঘাট যেন বন্ধ না করে, এবং যেন পূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়।
থমথমে খাগড়াছড়ি, ১৪৪ ধারা বহাল
এদিকে,খাগড়াছড়িতে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারসহ আট দফা দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডেকেছে জুম্ম ছাত্র-জনতা। এ ছাড়া সদর উপজেলা ও গুমারা উপজেলায় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা অব্যাহত আছে।
এদিকে জুম্ম ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে শুধুমাত্র খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-ঢাকা এ দুই সড়কে অবরোধ শিথিল করা হয়েছে।
জুম্ম ছাত্র-জনতার এক মুখপাত্র বলেন, গুইমারায় গুলিতে ও নির্যাতনে আহত ভাই-বোনদের উন্নত চিকিৎসা এবং মরদেহ সৎকারের সুবিধার্থে ঢাকা-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সড়কে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুপুর ১২টা থেকে সড়ক অবরোধ শিথিল করা হয়েছে।
আজ সোমবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকালে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সার্বিক পরিস্থিতি থমথমে। শহরে দুই একটা টমটম চললেও কোন দোকানপাট খোলা ছিল না।
তবে অবরোধ শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে কিছু বাস, ট্রাক ও আটকেপড়া গাড়ি ছেড়ে গেছে।
স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে নিহতদের মরদেহ এখনো সদর হাসপাতালের মর্গে আছে। এ তিনজন হলেন-সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের দেবলছড়ি চেয়ারম্যান পাড়ার আথুই মারমা (২১), হাফছড়ি ইউনিয়ন সাং চেং গুলি পাড়া আথ্রাউ মারমা (২২) ও রামসু বাজার বটতলা তৈইচিং মারমা (২০)।
খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ছাবের আহম্মেদ বলেন, 'গতকাল রোববার থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ১৪ জন আহত রোগীকে নিয়ে আসা হয়েছে। এরমধ্যে একজনকে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে ১৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া তিনজনের মরদেহ আনা হয়েছে।'
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরোফিন জুয়েল বলেন, 'সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ আইন-আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।'
গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে অষ্টম শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরদিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৩ জনের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শয়ন শীল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সম্পর্কে সেনাবাহিনীর বিবৃতি
গত ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মোটরসাইকেল চালক মামুন হত্যাকে কেন্দ্র করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) মূল এবং অঙ্গসংগঠন সমূহ দীঘিনালা ও রাঙামাটিতে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ফলশ্রুতিতে তিন জন নিহত সহ বেশ কিছু এলাকাবাসী আহত হয়। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর এর ঘটনার এক বছর পূর্তি হিসাবে এই বছর ইউপিডিএফ এবং এর সহযোগী সংগঠনসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল এর আয়োজন করে এবং অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ রাতে খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় এক স্কুলছাত্রীর ধর্ষণের অভিযোগকে আমলে নিয়ে ইউপিডিএফ (মূল) এর দাবিকৃত সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে নেয়া হয়। ঘটনাটির সত্যতা বিচারে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। শয়ন শীলকে গ্রেফতার করা সত্ত্বেও ইউপিডিএফ এর অঙ্গসংগঠন পিসিপি এর নেতা উখ্যানু মারমা ‘জুম্ম ছাত্র জনতার’ ব্যানারে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদী মানববন্ধনের ডাক দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ইউপিডিএফ এর আহ্বানে খাগড়াছড়িতে অর্ধবেলা হরতাল পালিত হয়। একই সময় দেশে বিদেশে অবস্থানরত ব্লগার এবং পার্বত্য অঞ্চলের কিছু দায়িত্বশীল ব্যাক্তিবর্গ কর্তৃক অনলাইনে বাঙালিদের উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ইউপিডিএফ এর কর্মী উখ্যানু মারমার নেতৃত্বে এবং সামাজিক মাধ্যমে দেশী ও প্রবাসী ব্লগারসহ পার্বত্য জেলার কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির উস্কানিমূলক প্রচারণার প্রভাবে সমগ্র খাগড়াছড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধ চলাকালে এক পর্যায়ে ইউপিডিএফ এর প্ররোচনায় উশৃঙ্খল এলাকাবাসী টহলরত সেনাদলের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ফলশ্রুতিতে তিনজন সেনা সদস্য আহত হয়। সার্বিক পরিস্থিতি এবং উসকানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধৈর্য্য, সংযম ও মানবিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এবং বল প্রয়োগ থেকে বিরত থাকে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ইউপিডিএফ এবং অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা আবারো দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির চেষ্টা চালায় এবং বিভিন্ন স্থানে বাঙালি সহ সাধারণ মানুষের উপর গুলি, ভাঙচুর, অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ এবং রাস্তা অবরোধসহ নাশকতা করে সমগ্র খাগড়াছড়ি পৌরসভা এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায়। উক্ত দিন দুপুর নাগাদ সামগ্রিক বিষয়টি পাহাড়ি-বাঙালির একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নেয়। অবস্থা বিচারে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক খাগড়াছড়ি ও গুইমারা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এমতাবস্থায়, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী চরম ধৈর্য্যের সাথে সারা রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং একটি অবশ্যম্ভাবী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিহত করা সম্ভবপর হয়।
খাগড়াছড়ি পৌরসভা এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টা ব্যর্থ হবার পর ইউপিডিএফ ও এর অঙ্গসংগঠন সমূহ আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকাল থেকে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার রামসু বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সাধারণ জনগণকে উস্কে দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে গুইমারা-খাগড়াছড়ি রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। আজ সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় ইউপিডিএফ কর্মী এবং সন্ত্রাসীরা এলাকার বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া তে লিপ্ত হয়। এই পর্যায়ে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, ইট-পাটকেল, গুলতি ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে সেনাবাহিনীর ০৩ জন অফিসারসহ ১০ জন সদস্য আহত হয়। একই সময় তারা রামগড় এলাকায় বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর করে এবং বিজিবি সদস্যদের আহত করে।
সংঘর্ষ চলাকালীন আনুমানিক ১১.৩০ ঘটিকার দিকে রামসু বাজারের পশ্চিম দিকে অবস্থিত উঁচু পাহাড় থেকে ইউপিডিএফ (মূল) সশস্ত্র দলের সদস্যরা ৪/৫ বার অটোমেটিক অস্ত্র দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত পাহাড়ি, বাঙালি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ১০০-১৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে, ঘটনাস্থলে সংঘর্ষে লিপ্ত এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়। এমতাবস্থায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর টহল দল দ্রুত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করার লক্ষ্যে উক্ত এলাকায় গমন করে। সেনাবাহিনীর তৎপরতায় উক্ত সশস্ত্র দলটি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
সমসাময়িক সময়ে রামসু বাজার এবং ঘরবাড়িতে ইউপিডিএফ (মূল) এর বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা অগ্নিসংযোগ করে এবং বাঙালিদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রামসু বাজার এবং গুইমারা এলাকায় অতিরিক্ত সেনাদল নিয়োগ করা হয় এবং বিকাল ৪.৩০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিগত কয়েকদিনের ঘটনা পর্যবেক্ষণে এটি স্পষ্ট যে, ইউপিডিএফ এবং তার অঙ্গসংগঠন সমূহ পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এলাকার মহিলা এবং স্কুলগামী কোমলমতি শিশুদের বিভিন্ন পন্থায় তাদের নাশকতামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণে বাধ্য করছে। একই সাথে পার্বত্যাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠনের লক্ষ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আজ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকালে বিজিবির কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন কর্তৃক স্থাপিত চেকপোস্টে ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসী সংগঠন কর্তৃক পরিবহনকৃত বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র যাত্রীবাহী বাস হতে জব্দ করা হয়।
বিগত ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত খাগড়াছড়ি এবং গুইমারা এলাকায় বিভিন্ন ঘটনাকে পুঁজি করে আইনের আশ্রয় না নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠনের বিষয়টি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে প্রতীয়মান হয়। এই বিষয়ে বিভিন্ন প্রমাণাদি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট সংরক্ষিত আছে। বিগত কয়েকদিনের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের সকল জাতিগোষ্ঠীর রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও জনসাধারণকে সংযত আচরণ করার জন্য আহবান জানাচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীসহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগীতা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। সকল ধরণের অপপ্রচার, মিথ্যা প্রচারণা, উস্কানিমূলক কর্মকান্ড সত্ত্বেও সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য এই অংশের অখন্ডতা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

