:

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল জালিয়াতী: দুদকের অভিযানে মেলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

top-news

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড যেন জালিয়াত চক্রের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ  না নিয়েও জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে তেমনি মেয়ে পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে ছেলে শিক্ষার্থী পরিক্ষা দেয়া এবং  জালিয়াতি মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণে  প্রাপ্ত নাম্বর বাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটছে। এর আগে শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে নিজের ছেলের ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনায় নারায়ন চন্দ্র নাথকে  সাসপেন্ড, থানায় মামলা এবং মামলার পর কারাগরেই  ঠাঁয় হয় তার। ফলাফল বাতিল করা হয় তার ছেলের।

এরই মধ্যে আবার শিক্ষা বোর্ডের গুদাম থকে পাবলিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত লাখ লাখ অলিখিত খাতা এবং লুজ শিট গায়েব হয়ে গেছে। এতসব ঘটনার পরও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছেন দুনীর্তিবাজরা। আর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেই যেন দায় সারছেন।

এরমধ্যে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুনীর্তি দমন কমিশন-দুদকের একটি টিম রোববার অভিযান চালায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে। এসময় তাঁরা বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখেন এবং তথ্য উদঘাটন করেন।

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করে। ঘটনাটি জানা জানির পর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে দুইজন প্রোগ্রামার শিক্ষা বোর্ডে এনে যাচাই বাছাই শুরু করলে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

এতে দেখা যায় আরো ১৫জন পরীক্ষার্থী আইসিটি পরীক্ষা না দিয়েই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরে অবশ তাদের ফলাফল বাতিল করা হয়।

এদিকে, এসএসসি পরীক্ষার পুন: নিরীক্ষণে ১৯ শিক্ষার্থীর নাম্বর বাড়িয়ে দেয়ার তথ্য উঠে আসে। এতে দেখা যায় খাতার নাম্বারে সাথে সার্ভারে থাকা ফলাফল সীটে গরমিল রয়েছে এবং সার্ভার সীটে বাড়তি নাম্বর দেয়ার তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে ১৯ শিক্ষার্থীর ৩৪টি খাতায় যে নাম্বর রয়েছে তার চেয়ে সার্ভারে ১০-২০ নম্বর পর্যন্ত বাড়তি দেখানো হয়েছে। 

জালিয়াতী এখানে শেষ নয়! মেয়ের পরিবর্তে ছেলেকে দিয়ে পরীক্ষা দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এত লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, খাগড়াছড়ির শহীদ লে. মুশফিক হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী সাদিয়া জাহান লাভলী, রোল নং-৭১৪৭৬৮, রেজিস্ট্রেশন নং-২১১৪৪৬৯২১৭-এর নাম পরিবর্তন করে পিয়াল আশরাফ শান্তের নামে প্রবেশপত্র তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধান বলছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গুদাম থেকে ৬ লাখ খাতা এবং সাড়ে ৪ লাখ লুজ শিট উধাও হয়ে গেছে। গুদামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত খাতা থাকার কথা ছিল ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৯টি। কিন্তু গণনার পর ১০ লাখ ৪৭ হাজার খাতা পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯০টি অতিরিক্ত খাতা বা লুজশিটের স্থলে পাওয়া যায় সাড়ে ৮ লাখ খাতা।

এর আগে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিজের ছেলের ফল জালিয়াতিতে ধরা পড়েন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্রনাথ। পরে তাকে বরাখাস্ত করা হয়, তার বিরুদ্ধে মামলা হলে জেল যান ওই সচিব। 

ওই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ, শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খান ও সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কাসরুল আখতার। 

চলতি বছরের ১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুন:পরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পুন:পরীক্ষণে ১ হাজার ৬৬৯ জনের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। খাতায় নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ১ হাজার ৭৪২ জনের। জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে ৬৪৬ জনের। ফেল থেকে পাস করেছে ৬৪ জন। নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৫ জন। নতুন ফল অনুযায়ী চট্টগ্রামে এবার পাস করেছে ১ লাখ ১ হাজার ২৪৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৯০৮ জন।

এর আগে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত ১০ জুলাই। এতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *