দেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ পি আর পদ্ধতির সঙ্গে অপরিচিত
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 22 Sep, 2025
জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা কম। দেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ এ পদ্ধতির সঙ্গে অপরিচিত, বাকি ৪৪ শতাংশ এ বিষয়ে সচেতন। যারা সচেতন তাদের মধ্যে ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ এ পদ্ধতির বিপক্ষে। ২২ দশমিক ২০ শতাংশ মানুষ এ পদ্ধতিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা’ নিয়ে দ্বিতীয় দফার প্রথম পর্বের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বেলা ১১টায় রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (বিআরএআইএন) ও ভয়েস ফর রিফর্মের যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার।
অনুষ্ঠানে জরিপের মেথডলজি সম্পর্কে জানানো হয়, ২-১৫ সেপ্টম্বর পর্যন্ত এ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এতে অংশ নেন সারা দেশের আটটি বিভাগের ৬৪ জেলার ১০ হাজার ৪১৩ জন ভোটার। উত্তরদাতাদের গ্রামীণ-শহুরে, নারী-পুরুষ ও বয়সভিত্তিক বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরা সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে অধিক সচেতন ও অপেক্ষাকৃত বেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। অন্যদিকে তুলনামূলক কম শিক্ষিত ব্যক্তিরা এ পদ্ধতি সম্পর্কে কম সচেতন এবং নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। আবার প্রবীণদের তুলনায় নবীন-শিক্ষার্থীরা (জেন- জি) সাধারণত এ বিষয়ে অধিক সচেতন ও তাদের মনোভাব ইতিবাচক। বয়স যত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিআর সম্পর্কে নেতিবাচকতা বেড়ে যায়।
জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। পিআর সম্পর্কে অসচেতন ব্যক্তিদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো এ পদ্ধতি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন, যুক্তিতর্ক উপস্থান করছেন। তারা চাইলে এ পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে ক্যাম্পেইন করবেন, না চাইলে করবেন না। এ ধরনের বিতর্কে সরকার আপাতত যুক্ত হবে না।’
অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচনী পরিবেশ, আইন ও শৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী সংস্কার সম্পর্কে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মনোভাব জানতে এ জরিপ পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার প্রশ্নে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠের বর্তমান সরকারের কর্মক্ষমতার প্রতি ইতিবাচক ধারণা রয়েছে, যার ৭৮ দশমিক ৭ শতাংশ সরকারকে ‘ভালো’ বা ‘মধ্যম’ হিসেবে রেট দিয়েছে। তবে তরুণ, বেশি শিক্ষিত ও শহুরে জনসংখ্যার মধ্যে অনুমোদনের রেটিং কম।
জরিপ অনুযায়ী, সরকার একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সক্ষম হবে কিনা সে বিষয়ে জনগণ মূলত আত্মবিশ্বাসী, যার ৬৯ দশমিক ৯০ শতাংশ একটি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। একটি অনুরূপ সংখ্যাগরিষ্ঠ (৭৭ দশমিক ৫০ শতাংশ) বিশ্বাস করে যে তারা নিরাপদে ও ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারবে। যদিও পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে সন্দেহ তরুণ, শিক্ষিত ও শহুরে বাসিন্দাদের মধ্যে বেশি।
দেশের আইন ও শৃঙ্খলা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অধিকাংশ উত্তরদাতা (৫৬ দশমিক ৬০ শতাংশ) মনে করেন, গত ছয় মাসে চাঁদাবাজি বেড়েছে। এ ধারণা শহুরে বাসিন্দা, তরুণ প্রজন্ম এবং উচ্চশিক্ষা ও আয়ের স্তরের লোকদের মধ্যে বেশি স্পষ্ট। এ বিষয়ে তথ্যের প্রাথমিক উৎস হলো সামাজিক মাধ্যম, যা একটি উল্লেখযোগ্য অংশের জনসংখ্যার জন্য, বিশেষ করে তরুণ ও বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য।
নির্বাচন সময় ও ভোটদানের অভিপ্রায় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা সম্মত হয় যে নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত এবং ৯৪ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে শিক্ষার্থী, শিক্ষিত ব্যক্তি এবং কিছু পেশাজীবী নির্বাচন সময় সম্পর্কে উচ্চতর অসম্মতি এবং ভোট দেয়ার কম ইচ্ছা দেখিয়েছে।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সদস্য ড. সাইমুম পারভেজ, বিডিজবস.কম-এর সিইও একেএম ফাহিম মাশরুর, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুশনা ইমাম ও বিআরএআইএনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান প্রমুখ।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

