:

৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানার প্রজ্ঞাপন জারি

top-news

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এবার গাজীপুরে একটি আসন বেড়ে হয়েছে ছয়টি এবং বাগেরহাটে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এবার গাজীপুরে একটি আসন বেড়ে হয়েছে ছয়টি এবং বাগেরহাটে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করা হয়েছে। তবে দ্বাদশ সংসদের ২৫৪ আসনের সীমানা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পরিবর্তন আনা হয়েছে বাকি ৪৬টি আসনে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ভোট কেন্দ্রের অবস্থান বদল, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড স্থানান্তর কিংবা জনসংখ্যা অনুপাতে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পরিবর্তন আনা আসনগুলো হলো পঞ্চগড়-১ ও ২; রংপুর-১ ও ৩; সিরাজগঞ্জ-১ ও ২; পাবনা-১ ও ২; বাগেরহাট-১, ২ ও ৩; সাতক্ষীরা-২, ৩ ও ৪; মানিকগঞ্জ-২ ও ৩; ঢাকা-২, ৪, ৫, ৭, ১০ ও ১৪; গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬; নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫; ফরিদপুর-২ ও ৪; শরীয়তপুর-২ ও ৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩; কুমিল্লা-১, ২, ৬ ও ১০; নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫ এবং চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ আসন। 

সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের জন্য ইসি একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গত ৩০ জুলাই ৩০০ আসনের খসড়া প্রকাশ করা হয়। জনগণ ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো দাবি বা আপত্তি থাকলে ১০ আগস্টের মধ্যে জানানোর কথা বলে ইসি। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ১ হাজার ৮৯৩টি আবেদন পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮৫টি ছিল আপত্তি এবং ৭০৮টি সুপারিশ বা পরামর্শ। আর এসব আবেদন আসে ৩৩ জেলার ৮৪টি আসন থেকে। সবচেয়ে বেশি আপত্তি জমা পড়ে রাজশাহীর আসনগুলোয়, মোট ২৩২টি। রংপুর থেকে আসে সাতটি, ময়মনসিংহ থেকে তিনটি, ফরিদপুর থেকে ১৮টি ও সিলেট থেকে দুটি। অন্যান্য জেলায়ও নানা রকম প্রস্তাব ও দাবি উত্থাপিত হয়।

গত ২৪-২৭ আগস্ট পর্যন্ত টানা চারদিন এসব দাবি-আপত্তি নিয়ে শুনানি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শুনানিতে অংশ নেন। তারা প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ইসি প্রথমে আপত্তিগুলো শোনে এবং পরে সেগুলো যাচাই করে যৌক্তিক প্রস্তাব গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা সব মতামত গুরুত্বসহকারে শুনেছি। যে প্রস্তাবগুলো বাস্তবসম্মত এবং আইনগত কাঠামোর ভেতরে ছিল তা বিবেচনায় নিয়েছি। তবে অনেক আপত্তি ছিল রাজনৈতিক বা একপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সেগুলো গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্বিন্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। কারণ এটি সরাসরি ভোটার কাঠামো এবং প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণ করে। বিশেষ করে বড় শহর ও জনবহুল এলাকায় আসন সংখ্যা বাড়ানো হলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার চরিত্র বদলে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সীমানা নির্ধারণে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে গাজীপুরে। দেশের অন্যতম শিল্পনগরী এটি। এখানে প্রচুর ভোটার। তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আসন সংখ্যা বাড়ানো সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

কিছু রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগততা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। বাগেরহাটে একটি আসন কমিয়ে তিনটি করার সিদ্ধান্তেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী আসন কমানো যৌক্তিক। আবার অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এতে এলাকার উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চূড়ান্ত ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। এরপর আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই। কমিশন আশা করছে, নতুন সীমানার আওতায় নির্বাচন হলে জনগণের প্রতিনিধিত্ব আরো কার্যকরভাবে নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *