৬মাসেও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন: বাড়ছে শংকা
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 28 Aug, 2025
গেল বছরের ৫ আগষ্ট ছাত্র গণঅভ্যত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলের পতন ঘটে। স্বাভাবিক ভাবে দেশের অনান্য জনগোষ্ঠীর মত গণমাধ্যম কর্মিদের প্রত্যাশা ছিল গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে গঠিত অর্ন্তবর্তী সরকার অনান্য সংস্কার কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যম খাতে ব্যাপক সংস্কার করবে। অর্ন্তবর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর ১১টি খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করে। এরমধ্যে রয়েছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন। কমিশন চলতি বছরের মার্চে ১৭৪ পাতার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরমধ্যে ৬মাস পেরিয়ে গেলেও কমিশনের দাখিল করা প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।
গণমাধ্যম সংস্কারে অর্ন্তবর্তী সরকার কমিশন গঠনের পর গণমাধ্যম কর্মিদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়ে ছিল তা যেন ক্রমশ: বিলীন হতে চলেছে। সংস্কার এখন আটকে আছে ”জুলাই সনদে”। অবস্থাটা এমন ”জুলাই সনদ” হলেও সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাব! তাই যদি হয় তাহলে রাষ্ট্রের কড়ি কড়ি টাকা খরচ করে এসব সংস্কার কমিশন গঠনের আদৌ কি প্রয়োজনীতা ছিল?
অর্থাৎ সব সরকারের আমলে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার যে প্রবণতা তৈরি হয়ে ছিল কার্যত: সেটি এখনো চলমান আছে। গণমাধ্যমে স্বাধীনতা ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকার আগের সেই প্রবণতা থেকে বের হতে পারেননি।
এরমধ্যে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারীতে অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে দেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী ডামাঢোলে হারিয়ে যেতে বসেছে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন। এর ফলে গণমাধ্যম কর্মিদের মধ্যে যেমন হতাশা বাড়ছে তেমনি গণমাধ্যমের ভবিষ্যত নিয়ে শংকাও তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গণমাধ্যম কর্মিদের উপর আবারো খড়ক নামতে পারে এমন আশংকাও করছেন এর সাথে সংশ্লিষ্টরা।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলছে,
”জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে গণমাধ্যমের একটি অংশের ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ পেক্ষাপটে গণমাধ্যমের কাছে মানুষের প্রত্যাশা জানার জন্য গণমাধ্যম কমিশন একটি জরিপ চালায়। এ বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর মাধ্যমে পরিচালিত জরিপটি ছিল গণমাধ্যমের পাঠক-দর্শক-শ্রোতাদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম সমীক্ষা। এতে দেখা যায়, প্রতি ১০০ জনের ৬৮ জনই গণমাধ্যমকে স্বাধীন দেখতে চান। নিরপেক্ষ বা পক্ষপাতহীন গণমাধ্যমের প্রত্যাশা ৬০ ভাগ মানুষের। এছাড়াও মানুষ সরকারি, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবমুক্ত, বস্তুুনিষ্ঠ, সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে সক্ষম, হলুদ সাংবাদিকতামুক্ত গণমাধ্যম চান। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শতকরা ৩৮ জন এ কথাও মনে করেন যে, দেশের গণমাধ্যম স্বাধীন নয়।
দেশের গণমাধ্যম কেন স্বাধীন নয়-এই প্রশ্নের একাধিক উত্তরের সুবাদে ৭৯ ভাগ মানুষ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন, ৭২ ভাগ সরকারি হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন এবং ৫০ ভাগ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত স্বার্থ, মালিকের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের চাপকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অনেকে।
দেশের প্রচলিত ও বিকাশমান গণমাধ্যমের কাছে মানুষের এ প্রত্যাশা অমূলক নয়। এগুলো পূরণ করাই গণমাধ্যমের কাজ। গণমাধ্যম যে সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ, তারই প্রতিফলন ঘটেছে জরিপের ফলাফলে। কেন ব্যর্থ হচ্ছে, এর আভাসও পাওয়া যায় মানুষের পর্যবেক্ষণে।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমজগতে কেউ কেউ উন্নতি করলেও সামগ্রিকভাবে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটেনি। অতীতের কোনো সরকারই সুস্থধারার গণমাধ্যমের বিকাশের পথ সুগম করেনি, তবে গত দেড় দশকে বিচ্যুতির মাত্রা অনেক বেড়েছে।
বাংলাদেশে স্বাধীন, বস্তনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকাশের পথে প্রধান বাধাগুলোকে তিন ভাগে দেখা যায়-আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক। এছাড়াও রয়েছে মালিকানার সংকট, সরকারি নীতি সহায়তার অভাব। গণমাধ্যমের সমস্যার উত্তরণে আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি। আর্থিক সাফল্য এবং বিশ্বাসযোগ্য ও দায়িত্বশীল তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হলে মালিকানার কাঠামোয়ও আনতে হবে পরিবর্তন।
তবে মানুষের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মালিকানার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমেই এ বিষয়ে আলোকপাত করা যাক:
মালিকানার সংকট
গত তিন দশকে গণমাধ্যমের যে ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে, তা মূলত বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে বিনিয়োগের উৎস নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। ফলস্বরূপ, গণমাধ্যমে প্রবলভাবে রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের ব্যবসাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং সরকারি দলের সমর্থনে সংবাদ পরিবেশনের জন্য সম্পাদকীয় নীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছেন। একই গোষ্ঠীর মালিকানায় একাধিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন পরিচালিত হয়েছে, যার মাধ্যমে গণমাধ্যমে গোষ্ঠীগত প্রভাব কেন্দ্রেীভুত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। এতে গণমাধ্যমে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা কমেছে এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।
গণমাধ্যমের মালিকানায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিস্যায় লাগাম টানতে হবে। একক মালিকানায় স্বেচ্ছাচারের যে অবকাশ থাকে, তা বন্ধ করতে মাঝারি ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারমুখী করা এবং উদ্যোক্তা পরিচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের শেয়ার ধারণে সীমা বেঁধে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত; যেমনটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় আছে। একই মালিকানায় একাধিক সংবাদমাধ্যম রেখে গণমাধ্যম কেন্দ্রীভূত করার প্রবণতা রোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন দেশ। গণমাধ্যমে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি ও মানুষের নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া নিশ্চিত করতে হলে আমাদেরও 'ওয়ান হাউজ ওয়ান মিডিয়া'র পথে এগোতে হবে।
গণমাধ্যমকে ব্যবসাসফল ও টেকসই করার ক্ষেত্রে একক মালিকানার চেয়ে যৌথ মালিকানার সাফল্যের দৃষ্টান্ত রয়েছে। এতে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় থাকে, যা সাফল্যের অন্যতম শর্ত।
আইনগত সংস্কার
সংবিধানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা স্বীকৃত হলেও তাতে কিছু অস্পষ্টতা ও অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা আছে। এছাড়া ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে প্রচলিত কিছু আইন বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পথে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। বেশকিছু নতুন আইন প্রণীত হয়েছে, যার ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকরা সরকারের রোষানলের শিকার হচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাসহ প্রভাবশালী মহল এবং সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের ও সরকারের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েছে।
স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশে পেনাল কোড (দ-বিধি) ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩, আদালত অবমাননা আইন ১৯২৬ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-সহ আরও কয়েকটি আইনের সংশোধন দরকার। অর্ন্তবর্তী সরকার অবশ্য সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাব করেছে: যার বিভিন্ন বিধান নিয়ে অধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়ে গেছে।
সাংবাদিকদের বাকস্বাধীনতা বস্তুুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের চর্চার মতো সুরক্ষিত অধিকারের জন্য বিভিন্ন সময়ে হয়রানি ও শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়। এক যুগেরও বেশি সময় সাগর-রুনি দম্পতির বহুল আলোচিত হত্যাকা-ের বিচার না হওয়ায় জনধারণা তৈরি হয়েছে যে সাংবাদিকদের মারলে কিছুই হয় না। বৈশ্বিক উত্তম চর্চার আলোকে বাংলাদেশেও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সুরক্ষা আইন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইনের একটি খসড়া অধ্যাদেশ আকারে এই প্রতিবেদনে সংযুক্ত করেছে এবং দ্রুতই এটি জারি করার ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করছে।
গণমাধ্যমের জবাবদিহি ও স্বনিয়ন্ত্রণ
সব ধরনের গণমাধ্যমকে একই তদারকি বা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের আওতায় আনা দরকার। সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার জন্য বিদ্যমান বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এবং সম্প্রচারমাধ্যম ও অনলাইনের জন্য বিগত সরকার প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের সমন্বয়ে বাংলাদেশ গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা যেতে পারে, যেটি হবে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত এবং যেটি স্ব-নিয়ন্ত্রণ ও বৈশ্বিক উত্তম চর্চার নিরিখে গণমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতার জন্য হবে স্বনির্ভর এবং তাই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের সামান্য একটি অংশ দিয়েই তার ব্যয়নির্বাহ সম্ভব, যেমনটি ভারতে হয়। পাশাপাশি সরকারও অনুদান দিতে পারে, তবে তা হবে নিঃশর্ত।
গণমাধ্যম কমিশন নিশ্চিত করবে যাতে ঋণখেলাপি ও ফৌজদারি অপরাধে দ-িত ব্যক্তিরা গণমাধ্যমের মালিক বা সম্পাদক না হতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি সাংবাদিকদের আচরণবিধি প্রণয়ন ও প্রতিপালন নিশ্চিত করবে, সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করবে, সারা দেশে কর্মরত সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও তালিকা করবে। সম্প্রচার ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়ার এখতিয়ারও থাকবে প্রতিষ্ঠানটির হাতে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন এ বিষয়ে নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে রিপোর্টের সঙ্গে তার খসড়া সংযোজন করছে।
গণমাধ্যমের সংখ্যাধিক্য ও দেশের ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত বেকারত্বের পটভূমিতে সাংবাদিকতা বেতন-ভাতা ক্রমেই কমছে বা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। কমিশন মনে করে, সারা দেশের সাংবাদিকদের স্থায়ী চাকরির শুরুতে একটি অভিন্ন ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যা হবে সরকারি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মূল বেতনের সমান এবং যা প্রতিবছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় হবে। ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিকদের বেতন ও মর্যাদার বৈষম্য দূর করা, সাংবাদিকদের বাড়ি ভাড়া, অবসর ভাতা কিংবা গ্র্যাচুইটি প্রদানের কথাও বলছে কমিশন।
প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা
বাংলাদেশে গত দুই-তিন দশকে গণমাধ্যমের যে অভূতপূর্ব বিস্তার, প্রসার ও রূপান্তর ঘটেছে, তা অনেকটা অপরিকল্পিত। বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলানোর একটি অসংগঠিত প্রয়াস, যা স্বৈরশাসকের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও দুরভিসন্ধির কারণে কলুষিত হয়েছে। দেশে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি প্রকটভাবে অনুভূত হচ্ছে। সাংবাদিকতার গুণগত মানের উন্নতি না ঘটে বরং ক্রমাগত অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং গুণগত দিক থেকেও যথেষ্ট সমৃদ্ধ নয়।
তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠারগুলোর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্মস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিএফপি) মুদ্রিত সংবাদপত্রের বিশ্বাসযোগ্য প্রচারসংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি। ডিএফপির মিডিয়া লিস্টে থাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৫৯০টি পত্রিকার ঘোষিত প্রচারসংখ্যার যোগফল দৈনিক প্রায় পৌনে দুই কোটি। অথচ হকারদের হিসাবে ঢাকাসহ সারাদেশে পত্রিকা বিক্রি দৈনিক ১০ লাখের বেশি নয়।
দ্য প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট সময়োপযোগী না হওয়ায় গত তিন-চার দশকে ঢাকাসহ সারাদেশে অসংখ্য নামসর্বস্ব সংবাদপত্র ডিক্লারেশন পেয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে। উদ্ভব হয়েছে নানা সমস্যার।
আর্থিক সংকট
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পূর্বশর্ত হচ্ছে আর্থিক স্বাবলম্বিতা বা সচ্ছলতা। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের গণমাধ্যম কখনোই সম্পুর্ণরূপে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ছিল না। বিজ্ঞাপনের সীমিত বাজারে এখন প্রথাগত ও ডিজিটাল মিডিয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা। মুদ্রিত সংবাদপত্রের বিক্রি দ্রুত কমছে, দর্শক-শ্রোতা হারাচ্ছে সম্প্রচারমাধ্যম। পাল্লা দিয়ে বিজ্ঞাপনের আয়ও কমছে। অনলাইনে পত্রিকার পাঠক বাড়লেও আয় বাড়েনি। গণমাধ্যমের কর্ণধারদের অনেকে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো সংবাদমাধ্যমই লাভজনক নয়। এক-দুই দশক ধরে নিজের আয়ে সাফল্যের সঙ্গে চলা এবং প্রসার লাভ করা পত্রিকাগুলোও এখন ব্যয় সংকোচন করছে। একই অবস্থা বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলের।
সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করলেও প্রযোজ্য নীতি সহায়তা দেয় না সরকার। বরং করপোরেট ট্যাক্সের উচ্চহার (২৭.৫%) এ শিল্পকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অগ্রিম কর ও নিউজপ্রিন্টের আমদানি শুল্ক থেকে মুক্ত করা উচিত এ শিল্পকে।
রাষ্ট্রায়াত্ত আরও দুটি প্রতিষ্ঠান-প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (জাগই)-কে একীভূত করে একটি শক্তিশালী জাতীয় গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান/ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্কার কমিশন।
সরকারি বিজ্ঞাপন পেতে হলে ডিএফপির মিডিয়া লিস্টে অর্ন্তভুক্তহ হতে হয়। এজন্য ন্যূনতম প্রচারসংখ্যার শর্ত আছে। প্রচারসংখ্যা নিরীক্ষার বর্তমান ব্যবস্থা অস্বচ্ছ, দুনীর্তিগ্রস্ত পত্রিকার প্রকৃত কাটতি নিরূপণ করা উচিত বিক্রির হিসাব ধরে, বিল আদায়ের রসিদের ভিত্তিতে। আয়কর রিটার্ণের কপি বাধ্যতামূলক করেও প্রকৃত প্রচারসংখ্যা নিরূপণ করা যায়, যার ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন বণ্টন ও হারে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব।
রাষ্ট্রীয় মালিকানার টেলিভিশন ও বেতার 'পাবলিক সার্ভিস ব্রডস্টার' হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি, এ দুটি প্রতিষ্ঠান এক ছাদের নিচে একীভূত একটি প্রতিষ্ঠানের দুটি শাখা হিসাবে কাজ করতে পারে, যাতে যৌথ সম্পদ, দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার করে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এরকম নজির বিশ্বে রয়েছে, যেমন বিবিসি এবং ডয়েচে ভেলে। আরেক রাষ্ট্রমালিকানার প্রতিষ্ঠান বাসস রাজনৈতিক হস্কক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে তার প্রাসঙ্গিকতা হারাতে বসেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বার্তাকক্ষের সক্ষমতাকে কাজে লাগানো সম্ভব। তাই বাসস হতে পারে একীভূত জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার বার্তা বিভাগ। তিনটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে বাংলাদেশ/জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা, যেটি এখনকার মতো সরকারের অর্থায়নেই চলতে পারে। পাশাপাশি নিজের আয়ের পথও খুঁজবে। একটা পথ হতে পারে টেলিভিশনের বার্ষিক লাইসেন্স ফি পুনঃপ্রবর্তন। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনেক দেশে সম্প্রচারমাধ্যমের আয়ের প্রধান উৎস লাইসেন্স ফি।
স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশে আরও যেসব বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি বলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন মনে করে, সেগুলো এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো। এসব বিষয় প্রতিবেদনে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
যত সংস্কারই করা হোক না কেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নির্ভর করবে আর্থিক স্বাবলম্বিতার ওপর। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ভোগ করে, ব্যবসাসফল হয়ে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকতে পারে, এর নজির এদেশেই আছে। টেকসই বিকাশের জন্য সরকারি নীতিসহায়তা দরকার। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার জন্য দরকার সচিন্তিত ব্যবসা মডেল ও উদ্ভাবন। এছাড়া আরও কিছু পরামর্শ এসেছে, যাতে সৃজনশীল গণমাধ্যম ও নতুন মাধ্যমে ছোট-বড় সব ধরনের উদ্যোগে স্বচ্ছ বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়।
সাংবাদিকতা সুরক্ষা অধ্যাদেশ:
কমিশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ নামে একটি আইনের খসড়া তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ৩। সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি হইতে জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার অধিকার। (১) প্রত্যেক সাংবাদিক/সংবাদকর্মীকে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি হইতে সুরক্ষা প্রদানের দায়িত্ব উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকারের থাকিবে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকার যথাযথভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি এমন কোনো কর্মকান্ড করিবেন না বা নিয়োজিত হইবেন না যাহা দ্বারা সাংবাদিক/সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবন বা সম্পদের কোনোরূপ ক্ষতি হয়।
(৩) সাংবাদিক/সংবাদকর্মীর পেশাগত নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকার যথাযথ উদ্যোগ/ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে, যেন নিবর্তনমূলক কোনো আইন বা বিধি দ্বারা সাংবাদিক/সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবন বা সম্পদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় বা তাহাদের আইন বহির্ভূতভাবে গ্রেফতার বা আটক না করা হয়।
(৪) জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ বা প্রচারের কারণে পেশাগত কর্মে নিয়োজিত কোনো সাংবাদিক/সংবাদকর্মী যেন কোনো সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকার যথাযথ উদ্যোগ বা পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(৫) জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ বা প্রচারের কারণে পেশাগত কর্মে নিয়োজিত কোনো সাংবাদিক/সংবাদকর্মী যেন কোনো ব্যক্তি বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সরকারি কর্মচারী বা সংস্থা কর্তৃক সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(৬) জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য সংগ্রহ কালে বা প্রকাশ বা প্রচারের কারণে দেশের কোনো বিরোধপূর্ণ এলাকায় পেশাগত কর্মে নিয়োজিত কোনো সাংবাদিক/সংবাদকর্মী যেন সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
৪। ব্যক্তিগত তথ্যাদির গোপনীয়তা ও তথ্যসূত্র প্রকাশ না করিবার অধিকার।
(১) পেশাগত কর্মে নিয়োজিত সকল সাংবাদিক/সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং গৃহ, পরিবার ও যোগাযোগের সকল মাধ্যম সুরক্ষিত রাখিবার অধিকার থাকিবে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকার এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(২) পেশাগত কর্মে নিয়োজিত কোনো সাংবাদিক/সংবাদকর্মীর জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না বা বল প্রয়োগ করিয়া অবৈধভাবে তাহার গৃহে প্রবেশ, তল্লাশী বা সম্পদ জব্দ করা যাইবে না এবং আইন অনুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না যাহাতে তাহার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, স্বাধীনতা, সুনাম, সম্মান বা সম্পত্তির হানি ঘটে।
(৩) পেশাগত কর্মে নিয়োজিত কোনো সাংবাদিক/সংবাদকর্মীকে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্মচারী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভয়-ভীতির মাধ্যমে বা জোরপূর্বক শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ করিয়া তথ্যসূত্র প্রকাশে বাধ্য করিতে পারিবে না।
অপরাধ, শাস্তি, ক্ষতিপূরণ, ইত্যাদি
৯। অপরাধ ও শাস্তি। কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান পেশাগত কর্মে নিয়োজিত কোন সাংবাদিক/সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি করিলে, উহা একটি শাস্তিযাগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি মাত্রাভেদে অন্যূন ১ (এক) বৎসরের কারাদ- বা অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) বৎসরের কারাদ- বা অন্যূন ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা অর্থ দ- বা উভয় দ-ে দ-িত হইবেন।
১০। অর্থদ-কে ক্ষতিপূরণ হিসাবে রূপান্তর। বিদ্যমান অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপযুক্ত আদালত তদকর্তৃক ধারা ৯ এর অধীন আরোপিত অর্থদ-কে পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত সাংবাদিক/সংবাদকর্মীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করিতে পারিবে এবং অর্থদ- বা ক্ষতিপূরণের অর্থ দ-িত ব্যক্তির নিকট হইতে আদায়যোগ্য হইবে।
বিচার, তদন্ত, ইত্যাদি
১১। অপরাধের বিচার।
(১) এই অধ্যাদেশের অধীন দায়েরকৃত অভিযোগ এবং অপরাধের বিচার বা কার্যধারার নিষ্পত্তি প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(২) ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কোন নির্দিষ্ট সীমা থাকিবে না।
১২। ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার, নিষ্পত্তি ও আপীলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচার বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির Chapter XXII অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি প্রযোজ্য হইবে।
১৩। আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা এবং আপোষযোগ্যতা। এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং আপোষযোগ্য হইবে।
১৪। তদন্ত।- (১) এই অধ্যাদেশের অধীন দায়েরকৃত অভিযোগ ও মামলা সহকারী পুলিশ সুপারের নিম্নে নহে এইরূপ পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্ত করা হইবে।
(২) তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির সকল বিধিবিধান প্রযোজ্য হইবে।
১৫। মিথ্যা অভিযোগ করিবার শাস্তি। যদি কোন সাংবাদিক/সংবাদকর্মী অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে এই অধ্যাদেশের অধীন অভিযোগ করিবার আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও আবেদন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দ-িত হইবেন।
সংস্কার কমিশন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি ’গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব করে। এই কমিশন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ গণমাধ্যমের মান নিশ্চিত করা এবং কর্মরত সাংবাদিকদের কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তাই, এখনো নির্বাচনের বাকি যে সময়টা আছে এই সময়ের মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কারের গঠিত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। তবে এই দাবি বাস্তবায়নে বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকার কতটুকু আন্তরিক তা সময় বলে দিবে।(হাসান ফেরদৌস, গণমাধ্যম কর্মি)
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

